# রাত ২টোয় বাড়ি থেকে গ্রেফতার মমতা তৃণমূলের নেতা অজিত মাহাতো! চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ, ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাতের অন্ধকারে বাড়িতে হানা দিয়ে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, প্রায় ২টো নাগাদ বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে অজিত মাহাতোর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তথা মমতা তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ, চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। রাত প্রায় ২টো নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই ঘটনায় ঠিক কতজন অভিযোগ জানিয়েছেন এবং মোট কত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ অজিত মাহাতোর গ্রেফতারি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন অজিত। তবে শেষ পর্যন্ত জয় অধরা থেকে যায়। ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর কাছে পরাজিত হন তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের পৃথক শিবির হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ঝাড়গ্রামের রাজনৈতিক মহলের দাবি, অজিত মাহাতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তথা কালীঘাটপন্থী শিবিরের নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
অজিতের গ্রেফতারিকে ঘিরে তাই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারির কথা জানা গিয়েছে। ফলে এই গ্রেফতারির নেপথ্যে শুধুই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, নাকি এর সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের কোনও যোগ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশি তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালতে এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।