আইনশৃঙ্খলা সামলাতে চতুর্থী থেকেই শহরে ১২ হাজার পুলিশ, ট্র্যাফিকেও ‘মেগাপ্ল্যান’ লালবাজারের



চতুর্থীতেই উৎসবের আমেজে তিলোত্তমা। প্যান্ডেলমুখী পুজোপ্রেমীদের ভিড়। শহরের রাস্তায় যে ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হবে, সেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছে বোধনের আগেই। আর তা সামাল দিতে আজ, বুধবার থেকে রাস্তায় থাকছে লালবাজার। আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা সামলাতে রাস্তায় নামল ১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার অস্থায়ী হোমগার্ড। এছাড়াও ট্রাফিক ব‌্যবস্থা সামলাতে রাস্তায় থাকছে ৬ হাজার ট্রাফিক পুলিশ ও ৬ হাজার ট্রাফিকের জন‌্য নিযুক্ত অস্থায়ী হোমগার্ড।
মঙ্গলবার ট্রাফিক গার্ডের ওসি ও ট্রাফিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন লালবাজারের পুলিশকর্তারা। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে যান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাফিক সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে বাইপাস-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে নজরদারি চালায় হেলমেট বিহীন বাইক আরোহী, বাইকে ট্রিপল রাইডিংয়ের ব‌্যাপারে কড়া ব‌্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে শহর এবং শহরতলিতে তীব্র যানজট হচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসে। মঙ্গলবারই এই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, বাইরে থেকেও অনেক মানুষ পুজোয় আসেন। তাঁরা রাস্তা পারাপার করেন। যদি শৃঙ্খলা না থাকে, গাড়ি ও লোক একসঙ্গে রাস্তায় চলতে থাকে, তবে তা সমস‌্যার সৃষ্টি করতে পারে।
পুজোর শুরুতেই রাস্তায় যা ভিড় বেড়েছে তাতে অফিসের ব্যস্ত সময়ে সাধারণ মানুষকে হয়রান হতে হচ্ছে। তাই রাস্তায় যানজট থাকছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি তা কেটে যাবে বলে আশ্বাস পুলিশ কমিশনারের। এদিকে, শুধু রাস্তাই নয়, চাপ বাড়ছে মা ফ্লাইওভারের উপরও। এই ব‌্যাপারে পুলিশ কমিশনার জানান, একদিকে নিউ টাউনের ট্রাফিক, অন‌্যদিকে কলকাতার ট্রাফিক পুরো চাপ এসে পড়ে মা ফ্লাইওভারের উপর। ফ্লাইওভারে যানজট এড়াতে এখন কোনও কারণে গাড়ি খারাপ হয়ে গেলে সেটি মাঝখানে নিয়ে এসে ছোট ক্রেন দিয়ে বের করে দেওয়ার ব‌্যবস্থা করা হচ্ছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত যা সমস‌্যা রয়েছে, তা কলকাতা পুলিশ মেটানোর চেষ্টা করছে। এই ব‌্যাপারে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, শহরের অনেক বড় মণ্ডপে ভিড় জমে উঠেছে। বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসছেন। তার উপর পুজোর বাজার একেবারে শেষ মুহূর্তে। তাই দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট সংলগ্ন এলাকা, মধ‌্য কলকাতার নিউ মার্কেট ও ধর্মতলা, উত্তর কলকাতার হাতিবাগান, শ‌্যামবাজারে রয়েছে পুজোর বাজার করতে আসা মানুষের ভিড়। এ ছাড়াও যাদবপুর, কসবা, পার্ক সার্কাস, উত্তরের শপিং মলগুলির আশপাশেও ভিড় জমে উঠেছে মানুষের। তার উপর বিকেলের পর থেকে অফিসটাইমের যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সব মিলিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক ধীরগতিতে চললেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ময়দানে ট্রাফিকের আধিকারিকরা রয়েছেন বলেই জানাচ্ছে লালবাজার।

Post a Comment

Previous Post Next Post