দীপাবলিতে দিল্লিতে ছাড় সবুজ বাজিতে, ৭ ও ৮ নভেম্বর সময় বেঁধে দিল কোর্ট, কড়া নজরদারির নির্দেশ শীর্ষ আদালতের


# দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআরে সবুজ বাজি ফাটানোর অনুমতি, ৭ ও ৮ নভেম্বর সময় বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট, নজরদারিতে জোর আদালতের

দীপাবলির উৎসবের আগে দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (এনসিআর) বাসিন্দাদের জন্য বড়সড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখে বাজি ফাটানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না জারি করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবুজ বাজি বা গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত। তবে এই অনুমতি অবাধ নয়। আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর, মাত্র দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাজি ফাটাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, গোটা বিষয়টির উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে প্রশাসনকে। নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চে দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেখানেই দীপাবলি উপলক্ষে সবুজ বাজি ফাটানোর সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয় আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, ৭ এবং ৮ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। অর্থাৎ, সকাল ও রাত মিলিয়ে প্রতিদিন মোট তিন ঘণ্টা বাজি পোড়ানোর সুযোগ থাকছে। এর বাইরে অন্য কোনও সময়ে বাজি ফাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর দীপাবলির সময় দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। শীতের শুরুতে বাতাসের গুণমান আরও খারাপ হতে থাকে। তার উপর বাজি পোড়ানোর ফলে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং উৎসব পালনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই আদালতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই এ বারও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পথে না হেঁটে নির্দিষ্ট শর্তে সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হল।

গত বছর অক্টোবর মাসেও পরীক্ষামূলক ভাবে দীপাবলির সময় দিল্লি-এনসিআর এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য সবুজ বাজি বিক্রি ও ফাটানোর অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ বারও সেই ধরনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার পথেই হাঁটল শীর্ষ আদালত। তবে শুধু সময় বেঁধে দিলেই যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।

দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা চলছে। পাশাপাশি বাজি তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের হওয়া অন্য একটি আবেদনেরও শুনানি হচ্ছে। এই দুই মামলার শুনানিতেই উঠে আসে বাজি ব্যবহারের বিষয়টি। গত সপ্তাহের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করেছিল, বাজির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে তারা তাড়াহুড়ো করতে চায় না। বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলা করতে চায় আদালত।

তবে এ দিনের শুনানিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট কড়া মনোভাব দেখিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, শুধু নির্দেশ জারি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। নিয়ম ভাঙা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। কারণ, দূষণের প্রভাব শুধু মানুষের উপরেই নয়, পরিবেশের অন্যান্য জীবের উপরেও পড়ে।

এ প্রসঙ্গে বিচারপতিদের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এর সঙ্গে প্রতিটি জীবের ভাল-মন্দ জড়িয়ে রয়েছে। বাস্তবে কার্যকর না করলে নির্দেশ জারি করার কোনও মানে হয় না, তা প্রহসনে পরিণত হয়।” আদালতের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শীর্ষ আদালত।

সবুজ বাজি সাধারণ বাজির তুলনায় দূষণ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও সেগুলিকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত বলা যায় না। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো হলে পরিবেশের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশ মেনে প্রশাসন কতটা নজরদারি চালায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে, দীপাবলিতে উৎসব পালনের জন্য দিল্লি-এনসিআরে সীমিত ছাড় মিললেও দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনওরকম শিথিলতা চাইছে না সুপ্রিম কোর্ট। ৭ ও ৮ নভেম্বরের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে সবুজ বাজি ফাটানো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পর এখন নজর, বাস্তবে কতটা কঠোর ভাবে তা কার্যকর করা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post