300 বিঘা জমি হাতাতে মামাতো ভাইকে খুন! ধৃত মূলচক্রী বোন


গত শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির নিয়ামতপুরে খুন সৈয়দ জাভেদ বারিক ৷ আসানসোল পুরনিগমের এই অস্থায়ী সাফাইকর্মীর খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের ৷ তাঁরা জানতে পেরেছেন, 300 বিঘা জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই বছর একান্নর ওই প্রৌঢ়কে খুন করা হয় ৷ শুধু তাই নয়, খুনের পরিকল্পনা থেকে সুপারি দেওয়া, সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাভেদের পরিবারের সদস্যরাই ৷

এই ঘটনায় পুলিশ ফারহা নাজ নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে ৷ তিনি জাভেদের পিসতুতো বোন ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, তিনিই এই খুনের মূলচক্রী ৷ স্বামী আসিফ খান, দুই নিকট আত্মীয় ইন্তেকাব আলম ও সাজিদ আখতার সৈয়দ ওরফে ফয়জলকে সঙ্গে নিয়ে খুনের ছক কষেন ফারহা ৷ তার পর পরিকল্পনামাফিক খুন করানো হয় জাভেদকে ৷ পুলিশ ইতিমধ্যে ইন্তেকাব ও ফয়জলকে গ্রেফতার করেছে ৷ তবে ফারহার স্বামীর এখনও খোঁজ মেলেনি ৷

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের এসিপি (কুলটি) জাভেদ হোসেন বলেন, ‘‘খুব দ্রুততার সঙ্গে খুনের কিনারা করে ফেলা গিয়েছে এবং জলপাইগুড়িতে বসেই ওই মহিলা এই খুনের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিল । পুলিশের জেরায় সমস্তটাই স্বীকার করেছে অভিযুক্ত মহিলা । পুলিশ প্রত্যেকের নামে নির্দিষ্ট ধারা দিয়ে মামলা রুজু করেছে ।’’

নিয়ামতপুরে শুটআউট

গত শুক্রবার রাতে নিজের বাড়ির সামনেই খুন হন আসানসোল পুরনিগমের অস্থায়ী সাফাই কর্মী সৈয়দ জাভেদ বারিক । পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে জাভেদের মাথায় গুলি করে চলে যায় দুষ্কৃতীরা । একেবারে পাড়ার ভিতরে এই খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কুলটি এলাকায় ।

কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেই সেই রাতেই গ্রেফতার করে মৃত জাভেদ বারিকের খুড়তুতো ভাই ইন্তেকাব আলমকে । পুলিশের দাবি ছিল, জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই খুন ৷ এরপর পুলিশ ইন্তেকাব আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা । ইন্তেকাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফারহা নাজকে গ্রেফতারের পর জেরায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য ।

300 বিঘা জমি হাতাতে খুন !

কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ফারহা নাজ ও ইন্তেকাব আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, জলপাইগুড়িতে মৃত জাভেদ বারিকের এক পিসির প্রচুর জমি ছিল । যার পরিমাণ 300 বিঘারও বেশি ৷ স্বাভাবিকভাবে বর্তমান মূল্যও কয়েক কোটি টাকা । জাভেদ বারিকের সেই পিসি এক শিশুকন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন । সেই শিশুকন্যাই এখন বর্তমানে ফারহা নাজ ।

Post a Comment

Previous Post Next Post