চিনে এসসিও সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব হলেন নরেন্দ্র মোদি ৷ পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করে মোদি বলেন, "ভারত গত চার দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা বহন করে আসছে । সম্প্রতি, আমরা পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদের সব চেয়ে খারাপ দিকটি দেখেছি ৷ ভয়াবহ সেই মুহূর্তে আমাদের পাশে থাকার জন্য সমস্ত দেশকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷" তিনি জানান, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা যেকোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই উদ্বেগের ৷
পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় কেঁপে উঠেছিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও ৷ নৃশংস সেই ঘটনায় প্রাণ হারান 26 জন ৷ আন্তর্জাতিক মহলেও সেই হামলার তীব্র নিন্দা হয় ৷ 25তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিএ) সম্মেলনের মঞ্চে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷
এরপরই নাম না-করে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, "কোনও কোনও দেশ খোলাখুলি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে ৷ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক ৷ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে ৷ মানবতার খাতিরে এটা আমাদের দায়িত্ব ৷" প্রধানমন্ত্রী জানান, যেকোনও দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হল নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ৷ কিন্তু সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থা এই সবের পথে বড় চ্যালেঞ্জ । সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি দেশের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান মোদি ।
মোদি বলেন, "সন্ত্রাসবাদের থেকে কোনও দেশ, সমাজ এবং দেশের নাগরিক নিরাপদ নয় ৷ সেকারণে, এর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ে ঐক্য়ের উপর জোর দিয়েছে ভারত ৷ যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আল কায়দা এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও লড়াইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ৷ আমরা সন্ত্রাসে অর্থ সাহায্যের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছি ৷"
সোমবার চিনের তিয়ানজিন শহরে এসসিও সম্মেলন উপলক্ষে ভারত, পাকিস্তান-সহ মোট 10টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত হন । রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্মেলনের আগে মোদি একান্তে কথা বলেন ৷ তারপরই মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হন মোদি ৷ পহেলাগাঁও হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসসিও গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলিকও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নেওয়ার আহ্বান জানান মোদি । কোনও ভাবেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আপস না-করার অনুরোধ করেন তিনি ৷
গত 22 এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাস হামলায় 26 জনের মৃত্যু হয় । হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে ভারত ৷ হামলার জবাবে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে 9টি জঙ্গিঘাঁটিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারতের সামরিক বাহিনী ৷ এরপর টানা 3 দিন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলে । ফলে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে । এই পরিস্থিতিতে পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই পহেলগাঁও হামলা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মোদি ৷