কমিশনের আতসকাঁচের নিচে ৯৫ লক্ষ ভোটার, বাংলায় আরও নাম বাদ? তুঙ্গে তরজা


ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে তৎপর নির্বাচন কমিশন। এসআইআর ফর্মে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়ায় প্রায় ৯৫ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্স করে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের কাছে শুনানির নোটিশ পৌঁছে দেওয়া এবং যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা শাসকরাই যেহেতু জেলা নির্বাচন আধিকারিক, তাই তাঁদের আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র অধীনে থাকা সমস্ত ভোটারের নোটিশ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অন্দরে মত, আগামী এক মাসে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি ও নথি যাচাই সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। এক জেলা আধিকারিক জানান, “শুনানি ও যাচাই পর্ব চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এত সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই করা কার্যত এক বিরাট কাজ।”

সূত্রের দাবি, বর্তমানে কমিশন ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের শুনানি চালাচ্ছে। কমিশনের এক সূত্র জানায়, প্রক্রিয়া দ্রুত না হলে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ থাকা ৯৫ লক্ষ ভোটারের শুনানি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের ফর্মে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ চিহ্নিত করে। একই সঙ্গে মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে বুথ লেভেল অফিসারদের যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ৭২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে বানান বা লিঙ্গ সংক্রান্ত ত্রুটি মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে বাকি ৯৫ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে কমিশনের সন্দেহ দূর না হওয়ায় তাঁদের শুনানির আওতায় আনা হচ্ছে।

এই ৯৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২৪.২১ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে ছ’জন বা তার বেশি ভোটারের অভিভাবক একই। কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা অধিকাংশকেই চিনতে না পারায় এই ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। এছাড়া ১১.৯৫ লক্ষ ভোটার এমন রয়েছেন, যাদের সঙ্গে অভিভাবকের বয়সের ফারাক ১৫ বছর বা তার কম যা নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়ে গিয়েছে।

আরও প্রায় ৮.৭৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ৫০ বছরের বেশি। এই ক্ষেত্রেও অসঙ্গতির কারণে শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৩.২৯ লক্ষ ভোটার নিজেদের দাদু-দিদার সঙ্গে যুক্ত করলেও বয়সের ব্যবধান ৪০ বছরের কম হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রেও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। সব মিলিয়ে এসআইআর-এর পরবর্তী ধাপে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

Post a Comment

Previous Post Next Post