আজ থেকেই দু’দিনের সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই সফর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সফরকালে তিনি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে অংশ নেবেন। বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বকে কার্যত ‘করো ইয়া মরো’ বার্তা দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, এ বার সুযোগ হাতছাড়া হলে আগামী দিনে বাংলায় বিজেপির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির। একদিকে যেমন নজর দেওয়া হয়েছে সংগঠন মজবুত করার দিকে অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বাংলা সফরের পর এবার রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিনের সফরে তিনি পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সফরে নাড্ডা বিভিন্ন জেলা সভাপতি, বিভিন্ন বিভাগের কনভেনর বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ কার্যকর্তা’দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজেপির লক্ষ্য বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে অন্তত পাঁচজনের একটি সক্রিয় দল তৈরি করা হবে, যারা ওই বুথের আওতাধীন ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে। এই দলগুলির দায়িত্ব হবে মমতা সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরা এবং একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মূলত তিনটি ইস্যুকে পাখির চোখ করেছে। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং বেকারত্ব। কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি নাড্ডা চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। বিভিন্ন পেশা ও সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই বিজেপির এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এদিকে, দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা না করেই লড়াইয়ে নামতে পারে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, বিজেপির মুখ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দলের প্রতীক পদ্মফুল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ, সব স্থানীয় নেতাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সেই অনুযায়ী পারফরম্যান্সের মূল্যায়নও করা হবে। পাশাপাশি অন্য রাজ্য থেকেও অভিজ্ঞ কর্মীদের বাংলার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে।