দিল্লির ক্যাফেতে চলল গুলি। ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে। খুনের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছেন, তা নিয়ে যখন পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে, তখনই প্রকাশ্যে আসে এক ভিডিয়ো (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। এক যুবক ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করে খুনের দায় স্বীকার করেন। শুধু তা-ই নয়, কেন খুন করেছেন, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত।
দিল্লির মৌজপুর এলাকার মিস্টার কিং লাউঞ্জ অ্যান্ড ক্যাফেতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। তারা জানিয়েছে, মৃত যুবক ফয়জান ওরফে ফাজ্জি (২৪) জেএমসি ওয়েলকাম এলাকার বাসিন্দা সেহরোজ আলমের পুত্র। তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে জিটিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ফয়জানের মাথা এবং বুকে গুলি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যে ক্যাফেতে গুলি চলেছে, সেটি অবৈধ! আপাতত ফরেন্সিক দল ওই ক্যাফেতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তবে ঘটনার তদন্তের মোড় ঘোরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। সমাজমাধ্যমে এক যুবক নিজেকে ‘অভিযুক্ত’ বলে দাবি করে ভিডিয়ো পোস্ট করেন।
কেন গুলি চালালেন ওই যুবক? ভিডিয়োয় তিনি দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগে ফয়জান তাঁকে মারধর করেছিলেন। সেই রাগে তিনি ফয়জানের জীবন নিয়েছেন! তাঁর বয়ান, ‘‘ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমি ফয়জানকে খুন করেছি। এর সঙ্গে আমার পরিবারের কোনও সম্পর্ক নেই। এই খুনের নেপথ্যে অন্য আর কেউ ছিলেন না। চার মাস আগে ও আমাকে চড় মেরেছিল। তাই আমি তাঁর জীবন শেষ করে দিয়েছি।’’ যদিও মৃতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যেরা খুনের নেপথ্যে জড়িত।
মৃত যুবকের দাদা দাবি করেন, ‘‘আমার ভাইকে পর পর তিনটি গুলি করা হয়েছে। একটি মাথায় লাগে, বাকি দু’টি বুকে। সম্ভবত তাকে ছুরি দিয়েও কোপানো হয়েছে। হাতে কাটা দাগ ছিল।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযুক্তের খোঁজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নেপথ্যে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।