নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভে আহত পুলিশ, মেখলিগঞ্জে বনধ


নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত মেখলিগঞ্জের জামালদহ । শনিবার রাতে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা ৷ জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই পথ অবরোধ তুলতে গেলে জনতার ছোড়া পাথরে জখম হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ । ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার 12 ঘণ্টা বনধের ডাক দেয় জামালদহ নাগরিক মঞ্চ । তাতেই রাস্তাঘাট থমথমে ৷ দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় মানুষজনের দেখা নেই ৷

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্ষণে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশ টালবাহানা করছিল । ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে । যদিও কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই বলেন, "ধর্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করে করছে পুলিশ । তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে ৷ শনিবার রাতে আচমকাই কিছু মানুষ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল । এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে ।"

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নদীর ধারে খড়ি আনতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা ৷ অভিযোগ, তখনই প্রতিবেশী ষাঠোর্ধ্ব এক ব্যক্তি তার উপর যৌন নির্যাতন চালায় ৷ তারপর ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হাত-মুখ চেপে ধরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় । গোটা ঘটনা পাশের এক গৃহবধূর নজরে আসতে তিনি ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে আসেন ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনা বাড়ির লোক জানলেও অভিযুক্তের লাগাতার হুমকির জেরে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেনি নির্যাতিতার বাবা । তবে শনিবার বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নির্যাতিতার পরিবারকে সাহস জোগায় ৷ এরপর স্থানীয়রাই নাবালিকার পরিবারকে এদিন সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য জামালদহ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় । পাশাপাশি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রচুর মানুষ জামালদহ ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভও দেখাতে থাকে ।

এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বৃদ্ধকে আটক করে । ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতে জামালদহে টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা ৷ যার জেরে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ হয়ে থাকে যান চলাচল । পুলিশের দাবি, অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের ছোড়া পাথরে আক্রান্ত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ । এরপরেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে । মুহূর্তের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় অবরোধকারীরা । এর মধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ । মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এলাকায় টহল দিতেও দেখা যায় ব়্যাফকে । বর্তমানে থমথমে রয়েছে এলাকা ।

Post a Comment

Previous Post Next Post