বাংলায় চলমান ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা যে রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নাম ঢোকানো হচ্ছে, তা এবার বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করল শাসক দল।
মহারাষ্ট্রের নাসিকের বাসিন্দা উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে যিনি মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত এবং সেখানে ২০২৬ সালের জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তার নাম পশ্চিমবঙ্গের ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভার ১৯৪ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় একই নাম সামনে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ভিন্রাজ্যের একাধিক ব্যক্তির নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। দলের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবেই ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢুকিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ন্যায্য ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করতে না পারার আশঙ্কাতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি।
এক্স -এ এক পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সতর্ক করেছিলেন যে রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। দলের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই সতর্কবার্তাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে রাজ্যে প্রচার চালালেও বাস্তবে বিজেপিই ভিন্রাজ্যের লোকজনকে বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, উজ্জ্বলা বুরুঙ্গলে শুধু বাংলার ভোটার তালিকায় নাম তোলেননি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময় এনুমারেশন ফর্মও জমা দিয়েছেন এবং শুনানির নোটিশও পেয়েছেন। শাসক দলের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত নির্বাচনী জালিয়াতি। বিজেপি ব্যালটের মাধ্যমে জিততে না পেরে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনা সংবিধান, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। বিজেপির এই পদক্ষেপ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নাশকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে শাসক দল।