এক জেলা, দুই রত্ন! দিল্লির দরবারে জয়জয়কার বাংলার, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ ও সাহিত্যিক রবিলাল


৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে খুশির জোয়ারে ভাসছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা। রবিবার কেন্দ্রের তরফে ঘোষিত ২০২৬ সালের ‘পদ্ম’ সম্মান প্রাপকদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বাংলার ১১ জন কৃতীর নাম। আর সেই তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন কালনার দুই ভূমিপুত্র, বিখ্যাত তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ এবং বিশিষ্ট সাঁওতালি সাহিত্যিক রবিলাল টুডু। দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পাচ্ছেন তাঁরা।

মসলিন থেকে জামদানি: সুতোর জাদুকর জ্যোতিষ দেবনাথ
 কালনা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারুইপাড়ার বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী জ্যোতিষ দেবনাথ বাংলার তাঁত শিল্পকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। মসলিন ও জামদানি শাড়ির ওপর তাঁর নিখুঁত নকশা ও বুননশৈলী আজ বিশ্ববন্দিত। শুধু নিজের কাজ নয়, কালনার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের তাঁত শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছেন তিনি। এর আগে তিনি জাতীয় পুরস্কার এবং ‘সন্ত কবীর অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন।

তাঁর হাতের জাদুতে মুগ্ধ দেশের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বরাও। সোনিয়া গান্ধী থেকে নীতা আম্বানি, কিংবা বলিউড তারকা বিদ্যা বালান, কাজল, জয়া বচ্চন, সকলের আলমারিতেই জায়গা করে নিয়েছে জ্যোতিষবাবুর তৈরি শাড়ি। লন্ডন, স্কটল্যান্ড, ইতালি, সিঙ্গাপুর ও জাপানের মতো দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর শিল্পকর্ম।

পদ্মশ্রী প্রাপ্তির খবরে আপ্লুত জ্যোতিষবাবু বলেন, ”এই সম্মান পাওয়ার জন্য আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বংশ পরম্পরায় আমরা তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই সম্মাননা বাংলার তাঁতশিল্পের খ্যাতিকে আরও সুদূরপ্রসারী করবে।”

সাঁওতালি সাহিত্যের কাণ্ডারী রবিলাল টুডু
অন্যদিকে, কালনা ২ ব্লকের নোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী রবিলাল টুডু ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাধক। কালনা কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের অডিটর জেনারেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, সাহিত্যের টানে চাকরি থেকে আগাম অবসর নেন। পরে যোগ দেন ব্যাঙ্কের চাকরিতে।

Post a Comment

Previous Post Next Post