'দলের নথি হাইজ্যাকের চেষ্টা', ইডির বিরুদ্ধে গর্জে উঠে অমিত শাহকে নিশানা মমতার


হাতে গোণা আর মাত্র কয়েকটা মাস। তারপরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। এদিকে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের প্রধান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই অভিযানের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীক জৈনের বাসভবন ও আই-প্যাক অফিসে ইডির তল্লাশি শুরু হয়। দুপুর বারোটা নাগাদ, তল্লাশি চলাকালীনই হঠাৎ লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কিছুক্ষণ আগেই সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে।

বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইডি তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। মমতার বক্তব্য, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথি নিয়ে যাচ্ছিল। হার্ডডিস্ক, ফোন সবকিছু। আমি সেগুলো ফিরিয়ে এনেছি।” তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, “তিনি দেশ চালাতে পারবেন না। আমার দলের নথি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, একদিকে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিকল্পনা “হাইজ্যাক” করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতীক জৈন তাঁর দলের দায়িত্বে থাকায় পরিকল্পিতভাবেই আই-প্যাককে নিশানা করা হয়েছে।

লাউডন স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের আই-প্যাক অফিসেও যান। সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয় এবং সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি আর্থিক জালিয়াতি ও কয়লা পাচার সংক্রান্ত পুরনো মামলার সূত্র ধরে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চলতে থাকে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৯ সালে সিবিআই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে অভিযান চালালে সেখানেও হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এবারও আই-প্যাক ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত নতুন করে প্রকাশ্যে এল।

Post a Comment

Previous Post Next Post