আইপ্যাকে তল্লাশিতে বাধা, হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইডি। জরুরি ভিত্তিতে মামলা দায়ের অনুমতি। বিচার পতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলা দায়ের। আগামীকালই শুনানির সম্ভাবনা।
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ কলকাতায় আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও অফিসে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই অভিযানের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়, যার কেন্দ্রে উঠে আসে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
ইডির অভিযান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে একটি ফাইল হাতে নিয়ে সেখান থেকে বেরোতে দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই অভিযান পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, “সবকিছুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে হচ্ছে। আমার দলের তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপস্থিতি ইডি অভিযানের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানকে তুলে ধরে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার এবং কেন্দ্রের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার পরিকল্পনা করছে দল।এদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর মন্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিচ্ছেন।”এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যেমন রাজনৈতিক তরজা বেড়েছে, এই ঘটনা সেই মেরুকরণকে আরও তীব্র করল। প্রতীক জৈনের বাড়ির পর এবার সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিসেও মমতা। সকাল থেকে এখানে কয়লা পাচার কাণ্ডে তদন্ত চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিস থেকে একাধিক নথি বের করে আনেন পুলিশ আধিকারিকরা। সেগুলি সরাসরি তোলা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে। গাড়ি ঘিরে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।