নয়াদিল্লি: বিপুল ঋণ এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান তথা জি গ্রুপের প্রাক্তন কর্ণধার সুভাষ চন্দ্র। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপির যে অভিযোগ ঘিরে আলোচনা চলছে, সেই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। দাবি, ওই বিপুল অঙ্ক তাঁর ব্যক্তিগত ঋণ নয়; বরং গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার ঋণের ক্ষেত্রে তাঁর দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টির সঙ্গে এই অঙ্কটি যুক্ত।
একটি ভিডিও বার্তায় সুভাষ চন্দ্র জানান, একসময় এসেল গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছিল। তাঁর দাবি, এর মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। সেই টাকা মেটাতে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নিজেদের বাড়ি-সহ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গ্রুপের আর্থিক সমস্যার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সম্পদ এবং দায়ের মধ্যে তৈরি হওয়া অসামঞ্জস্যের কথা স্বীকার করে তিনি তখন পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতিও আগের তুলনায় সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন সুভাষ চন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে তাঁর কাছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা এবং একটি ছোট আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির একটি অংশ ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই অঙ্কটিকে তাঁর ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থা যে ঋণ নিয়েছিল, তার ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত গ্যারান্টর ছিলেন—সেই দায়ের অঙ্ক থেকেই এই বিপুল পরিসংখ্যানের উল্লেখ করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
ফলে ঋণখেলাপি নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই সুভাষ চন্দ্রের বক্তব্য ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে এসেল গ্রুপের আর্থিক সংকট, ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত গ্যারান্টির দায়ের বিষয়টি। তাঁর বক্তব্য অবশ্যই তাঁর নিজস্ব দাবি; ঋণ সংক্রান্ত আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে।