আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা! গ্রেপ্তার বাংলার ‘তালিবান’ জঙ্গি


আফগানিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কর্নাটক পুলিশ। ধৃতের নাম আশাফুল মালিক। পুলিশের দাবি, বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করার সময় তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর যোগাযোগ তৈরি হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শনিবার তাঁর উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাড়িতেও তল্লাশি চালায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর বয়সি আশাফুল মালিক বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত নোয়াপাড়ার বাসিন্দা। ২০২৫ সালে তিনি বেঙ্গালুরুর জিগানি শিল্পাঞ্চলে একটি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই অনলাইনে টিটিপির বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়।
আফগানিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতির অভিযোগ
তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশাফুল আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন। পুলিশের সন্দেহ, উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানে পৌঁছে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে যোগ দেওয়া। তবে তাঁর কথিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগিয়েছিল এবং সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের পরিধি কতটা ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।
কর্নাটক পুলিশের নজরে আসার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের সহায়তায় বাদুড়িয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগ, অনলাইন কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
টিটিপির সঙ্গে যোগাযোগ কতটা গভীর?
টিটিপি বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান পাকিস্তানভিত্তিক একটি সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন। আফগানিস্তানের তালেবান এবং টিটিপি একই সংগঠন নয়—দুই সংগঠনের সাংগঠনিক পরিচয় ও লক্ষ্য আলাদা। ফলে আশাফুলকে সংবাদ প্রতিবেদনে ‘তালিবান’ বলে উল্লেখ করা হলেও, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি টিটিপির সঙ্গে কথিত যোগাযোগকে কেন্দ্র করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরায় আশাফুল পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এখনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁর উদ্দেশ্য, সাংগঠনিক ভূমিকা বা কথিত পরিকল্পনার পূর্ণ মাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
বাংলায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একজন সাধারণ চাকরিজীবী কীভাবে অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে সীমান্তপারের একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে তদন্তের আওতায় এলেন, সেটিই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার এবং সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আশাফুলের ক্ষেত্রে এমন কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, অন্য কেউ তাঁকে প্ররোচিত বা সহায়তা করেছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে প্রমাণ এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post