বন্দেমাতরম গাইতে বাধা সোনিয়ার ! বিজেপির অভিযোগ খারিজ কংগ্রেসের


স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ গানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াল বিজেপি ও কংগ্রেস। দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের সময় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী আপত্তি জানিয়েছিলেন—এমনই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, গান থামানোর কোনও প্রশ্নই ওঠেনি; বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জন্য চেয়ার আনার কথাই বলছিলেন সোনিয়া।
কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে?
শনিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানেই ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গের কিছু অঙ্গভঙ্গি ঘিরে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। বিজেপির নেতারা দাবি করেন, গানটি সম্পূর্ণ পরিবেশন করা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল এবং সেটি থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
বিজেপির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়। দলটির নেতাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই জাতীয় সংগীতের প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। বিজেপি নেতা গোপালকৃষ্ণ আগরওয়াল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দলটির বিরুদ্ধে ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রতি অসম্মান দেখানোর অভিযোগ করেন।
কী বলছে কংগ্রেস?
বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেন, সোনিয়া গান্ধী ‘বন্দেমাতরম’ বন্ধ করার জন্য কোনও নির্দেশ দেননি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনার কথাই সোনিয়া বলছিলেন। কংগ্রেসের দাবি, অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া হয়েছে এবং গান থামানোর কোনও চেষ্টা হয়নি।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও একই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় কোনও বাধা তৈরি হয়নি। ফলে বিজেপির অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই পাল্টা দাবি করেছে কংগ্রেস।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?
‘বন্দেমাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত। সাম্প্রতিক সময়ে গানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ পরিবেশন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে তার প্রোটোকল নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে এই গানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাটি দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে বিজেপির সমালোচনার মুখে পড়েছিল কংগ্রেস। সেই আবহেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধীকে ঘিরে বিজেপির নতুন অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
অভিযোগ বনাম পাল্টা দাবি
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো এবং তার ব্যাখ্যা। বিজেপির দাবি, ভিডিয়োতে সোনিয়ার আচরণ থেকে গান নিয়ে আপত্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে কংগ্রেস বলছে, একই দৃশ্যের ভুল ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং গান সম্পূর্ণ পরিবেশন করা হয়েছে।
অতএব, এই মুহূর্তে ‘সোনিয়া গান্ধী বন্দেমাতরম গাইতে বাধা দিয়েছেন’—এই দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিজেপি অভিযোগ তুলেছে এবং কংগ্রেস তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। বিতর্কটি মূলত দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ঘটনার ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post