ফুটবল বিশ্বে স্পেনের দাপট নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার ক্রিকেটের ময়দানেও ইতিহাস গড়ল ইউরোপের এই দেশ। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ২১ ম্যাচ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে স্পেন।
২০২৮ টি-২০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ইউরোপ সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’-তে শুক্রবার স্বাগতিক ফিনল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে এই অনন্য কীর্তি গড়ে স্পেন। ফিনল্যান্ডের দেওয়া ১৩২ রানের লক্ষ্য মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে টপকে যায় তারা। এই জয়ই স্পেনকে পৌঁছে দেয় টানা ২১ জয়ের মাইলফলকে।
তিন বছর ধরে অপ্রতিরোধ্য
স্পেনের এই অবিশ্বাস্য জয়ের ধারা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, আইল অব ম্যানের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে। এরপর একে একে জার্সি, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, গ্রিস ও ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের একাধিক দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে তারা। অর্থাৎ, ক্রিকেটে এখনও উন্নয়নশীল অ্যাসোসিয়েট দল হলেও ধারাবাহিকতার বিচারে স্পেন এখন বিশ্বের নজরে।
বর্তমানে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা জয়ের তালিকায় স্পেনের ২১ জয় সবার ওপরে। তাদের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া—২০০৩ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন দল টানা ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেছিল। সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার দাপট ছিল এমনই যে, তাদের ওই জয়ের ধারার মধ্যেই ওয়ানডে বিশ্বকাপও জিতে নেয় দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার সেই ঐতিহাসিক দল
২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। ১১ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে তাদের সেই ধারার শুরু হয়েছিল। এরপর একের পর এক ম্যাচ জিতে ২৪ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয় পর্যন্ত টানা ২১টি ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া—যদিও পুরুষদের সব ফরম্যাট মিলিয়ে ওই সময়ের ধারাবাহিকতার হিসাব অনুযায়ী ২০টি ম্যাচকে পুরনো আন্তর্জাতিক রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্পেনের বর্তমান কীর্তির বিশেষত্ব এখানেই—ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি না হয়েও তারা দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে জয় তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে।
টি-২০ ক্রিকেটেও স্পেনের চমক
এটাই অবশ্য ক্রিকেটে স্পেনের প্রথম বড় চমক নয়। ২০২৪ সালে গ্রিসকে হারিয়ে স্পেন পুরুষদের টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ১৪ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তীতে তাদের সেই ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত স্পেনের টি-২০ আন্তর্জাতিক রেকর্ডও যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল—৪৯ ম্যাচে ৪০ জয়, ৮ হার ও একটি নো-রেজাল্ট।
ফুটবলের দেশ, ক্রিকেটেও নজরকাড়া উত্থান
স্পেনকে সাধারণত ফুটবলের দেশ হিসেবেই চেনে বিশ্ব। কিন্তু ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উত্থান দেখাচ্ছে, দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাট-বলের জনপ্রিয়তাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ১৯৯২ সালে আইসিসির অ্যাফিলিয়েট সদস্য হওয়ার পর ২০১৭ সালে অ্যাসোসিয়েট সদস্যের মর্যাদা পায় স্পেন। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
বর্তমানে পুরুষদের টি-২০ আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে স্পেন ২৮ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ে এখনও বিশ্বের সেরা দলগুলোর ধারেকাছে না থাকলেও টানা ২১ ম্যাচের জয় তাদের ক্রিকেটীয় সম্ভাবনার বড় প্রমাণ।
স্পেনের এই নজির তাই শুধু একটি রেকর্ড ভাঙার গল্প নয়; এটি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিশ্বায়নেরও প্রতিচ্ছবি। যে দেশে ফুটবলই রাজা, সেই দেশই এখন ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মতো মহাশক্তির রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। প্রশ্ন এখন একটাই—স্পেনের এই জয়যাত্রা থামবে কোথায়?