ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত শর্মার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ফের তুঙ্গে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের পর থেকেই ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ় রয়েছে—সেই সিরিজ়ে রোহিতকে দলে রাখা হবে কি না, সেটিই এখন অন্যতম বড় প্রশ্ন।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, রোহিতের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে কেরিয়ার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জুলাইয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকিয়া স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ—এমন কোনও সিদ্ধান্ত বোর্ডে হয়নি। অর্থাৎ নির্বাচকদের পরিকল্পনায় রোহিতের জায়গা নিয়ে দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
কেন রোহিতকে নিয়ে এত আলোচনা?
রোহিত ইতিমধ্যেই টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে এখন তাঁর সামনে একমাত্র আন্তর্জাতিক ফরম্যাট ওয়ানডে। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচকেরা ভবিষ্যতের দল তৈরির জন্য তরুণ যশস্বী জয়সওয়ালকে পর্যাপ্ত ম্যাচ দেওয়ার পক্ষপাতী। এই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছে মূল দ্বন্দ্ব।
জুলাইয়ে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচকেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ় থেকেই ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাইছেন এবং জয়সওয়ালকে দীর্ঘ সুযোগ দিতে চাইছেন। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইংল্যান্ড সিরিজ়ের পর রোহিতের ভবিষ্যৎ তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রোহিতকে ঘিরে অবসর জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বোর্ডের তরফে জানানো হয়, তাঁর শেষ ওয়ানডে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ের দল ঘোষণার আগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন রোহিত-সমর্থকেরা।
আগরকরকে ঘিরে ‘মেয়াদ শেষের’ দাবি কতটা সত্য?
রোহিতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে রাখতে বোর্ড প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে নির্দেশ দিয়েছে—এমন দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও, আগরকরের মেয়াদ ‘শেষের মুখে’ রয়েছে বলা এখন সঠিক নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসিসিআই আগরকরের চুক্তি আরও এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৭ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই বোর্ড তাঁকে ধরে রাখতে আগ্রহী বলে জানা যায়।
অর্থাৎ, রোহিতের নির্বাচন নিয়ে আগরকরের সামনে যে সিদ্ধান্তের চাপ রয়েছে, সেটি তাঁর চাকরি বাঁচানোর প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত—এমনটা বলার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। বরং ২০২৭ বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই নির্বাচকদের মূল বিবেচনা।
রোহিত বনাম জয়সওয়াল—দ্বন্দ্বটা কোথায়?
ভারতের সামনে এখন একটি কঠিন নির্বাচন-সমীকরণ। রোহিতকে খেলালে অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচের মানসিকতা এবং ওপেনিংয়ে তাঁর দীর্ঘ সাফল্য পাওয়া যাবে। অন্যদিকে জয়সওয়ালকে নিয়মিত সুযোগ দিলে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে তাঁকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে পরিণত করে নেওয়ার সময় পাওয়া যাবে।
এই কারণেই নির্বাচকদের কাছে প্রতিটি ওয়ানডে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত ম্যাচ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রোহিত ও জয়সওয়ালের মধ্যে জায়গা নিয়ে সেই হিসাবই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
শেষ কথা
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—রোহিতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে রাখা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ারও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বোর্ডের প্রকাশ্য অবস্থান এবং পরবর্তী রিপোর্টগুলির মধ্যে পার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচক কমিটির দল ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
রোহিত যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে সুযোগ পান, তা হলে সেটি শুধু আর একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় হবে না—২০২৭ বিশ্বকাপের দৌড়ে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেবে। আর যদি সুযোগ না পান, তা হলে ভারতীয় ওয়ানডেতে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপাতত তাই ‘হিটম্যান’-এর সামনে দরজা খোলা, কিন্তু জায়গাটি নিশ্চিত নয়।