নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে খোঁজ মিলছে না শতাধিক ভারতীয় পর্যটকের। বুধবার সকালে ভোতেকোশি নদীতে আচমকা জলস্ফীতি ও বন্যায় তছনছ হয়ে যায় রাসুয়াগড়ি সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। এই পথ দিয়েই তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বহু তীর্থযাত্রী ও পর্যটক।
নেপাল পর্যটন পর্ষদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় বলে জানানো হয়েছে। তবে নিখোঁজদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে সংখ্যাটি পরবর্তী সময়ে বদলাতে পারে।
জানা গিয়েছে, বুধবারই রাসুয়াগড়ি দিয়ে তিব্বতে ঢোকার কথা ছিল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় থাকা পর্যটকদের। কিন্তু তার আগেই হড়পা বানের জেরে রাস্তা, সেতু-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথ ভাবে পর্যটকদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছে।
নেপাল পর্যটন পর্ষদ জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, গাইড এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। তালিকাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে।
হড়পা বানে রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা এবং সেতু। প্রাথমিক ভাবে অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নামানো হয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করেও নিখোঁজদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, কৈলাস-মানস সরোবরগামী পর্যটকদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে আপাতত নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে; তালিকায় থাকা প্রত্যেকের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। উদ্ধার ও যোগাযোগ স্থাপনের কাজ জোরকদমে চলছে।