বিশ্ব ফুটবলে ফিফা ও উয়েফার সংঘাত আপাতত কিছুটা প্রশমনের পথে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপ-সহ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের যে হুমকি দিয়েছিল ইউরোপের ফুটবল সংস্থাগুলি, তা প্রত্যাহারের পথে। ফিফার তরফে দেওয়া আশ্বাসের পরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ইনফান্তিনোর একটি পরিকল্পনাকে ঘিরে। বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আসার পর ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল সংস্থার মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। উয়েফা এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে এবং ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয়। পরে জুলাইয়ে ফিফা সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে।
তবে পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পরেও উয়েফার ক্ষোভ পুরোপুরি কাটেনি। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তারা চেয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বা অন্য কোনও বড় প্রতিযোগিতার মালিকানা বা বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে না—এ বিষয়ে ফিফার কাছ থেকে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক আশ্বাস। সেই আশ্বাস পাওয়ার পরই বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে পোল্যান্ডে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে চলা ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তাও কাটছে। বয়কটের হুমকি প্রত্যাহার হলে ইউরোপের যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলি পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে।
তবে এই সমঝোতার অর্থ যে ইনফান্তিনোকে ঘিরে ইউরোপের অসন্তোষ পুরোপুরি শেষ, তা নয়। বরং তাঁর নেতৃত্ব ও ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেই চলেছে উয়েফার একাধিক সদস্য। ইতিমধ্যে ইতালির ফুটবল সংস্থাও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের একাংশ ফিফায় আরও স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা আপাতত দূর হলেও ফিফা-উয়েফা সম্পর্কের টানাপড়েন পুরোপুরি শেষ হয়নি। বয়কটের অস্ত্র সরিয়ে রেখে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তারা এখন ফিফার প্রশাসন ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চাপ বজায় রাখতে চাইছেন। ফলে আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল বিশ্বের।