জাতপাতের পরিচয় থেকে পড়ুয়াদের দূরে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল হিমাচল প্রদেশ সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলগুলির ভর্তি ফর্মে আর থাকবে না ‘জাতি’ বা ‘কাস্ট’-এর কোনও ঘর। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু শিক্ষা দফতরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন।
শিমলায় হিমাচল প্রদেশের তফসিলি জাতি কল্যাণ পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ছোট বয়স থেকেই কোনও পড়ুয়ার পরিচয়ের সঙ্গে জাতপাতকে জুড়ে দিলে তার মধ্যে হীনমন্যতা বা শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়াতেই জাতিগত পরিচয়ের উল্লেখ না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু স্কুল নয়, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রি-নার্সারি থেকে কলেজ পর্যন্ত ভর্তি সংক্রান্ত ফর্ম ও প্রসপেক্টাসেও এই পরিবর্তন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৈনন্দিন প্রশাসনিক নথিতে পড়ুয়ার জাতিগত পরিচয়কে সামনে না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সংরক্ষণ বা কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হচ্ছে না। তফসিলি জাতিভুক্ত পড়ুয়া বা কোনও যোগ্য ব্যক্তি সরকারি প্রকল্প, বৃত্তি কিংবা অন্যান্য সুবিধা নিতে চাইলে প্রয়োজন অনুযায়ী জাতির তথ্য দিতে পারবেন। ফলে সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেই জানিয়েছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক সরকারি প্রকল্প চালু রয়েছে। যোগ্য সুবিধাভোগীরা যাতে সেই প্রকল্পগুলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিমাচল সরকারের এই পদক্ষেপকে জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্য কমানোর একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্কুলজীবনের শুরুতেই পড়ুয়াদের পরিচয়ের সঙ্গে জাতপাতের বিভাজনকে যুক্ত না করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরভাবে বৈষম্য কমাতে পারে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে নজর থাকবে।