বাড়তে বাড়তে ৯.৯২ শতাংশে পৌঁছল পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার! উৎসবের মরসুমে দামের ছেঁকায় আরও পুড়বে পকেট?


ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দামে লাগামছাড়া বৃদ্ধি। তারই আঁচ এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের পাইকারি বাজারে। বাড়তে বাড়তে দেশে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার পৌঁছে গেল ৯.৯২ শতাংশে। উৎসবের মরসুমের আগে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অগস্টে পাইকারি মূল্যসূচক বা WPI-ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯.৯২ শতাংশ। অথচ জুলাই মাসে এই হার ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পাইকারি বাজারের দামের চাপ।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার পাশাপাশি জ্বালানির দামের বৃদ্ধি এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। খনিজ তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ থেকে শুরু করে উৎপাদন— বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যায়। তার প্রভাব ধীরে ধীরে পাইকারি বাজার পেরিয়ে খুচরো বাজারেও পড়তে পারে।
আর ঠিক এই জায়গাতেই উৎসবের মরসুম নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। দুর্গাপুজো-সহ একের পর এক উৎসব সামনে। এই সময়ে সাধারণত বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তার সঙ্গে যদি উৎপাদন ও পরিবহণের খরচও বৃদ্ধি পায়, তা হলে খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ইতিমধ্যেই আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব খুচরো বাজারেও পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উৎসবের কেনাকাটায় সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
অর্থাৎ, উৎসবের মরসুমে যখন বাজারে কেনাকাটার হিড়িক পড়ার কথা, তখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের চাপ নতুন করে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে আগামী দিনে বাজারদর কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের।

Post a Comment

Previous Post Next Post