কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব কাজই এ বার অনলাইনে



কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মানেই অনেকের কাছে লাল ফিতের ফাঁস! একটা সাধারণ কাজের জন্যেও বার বার ঘোরা—কাজ আর এগোয় না। এ বার সেই সমস্যার সমাধানে পুরোপুরি ই–গভর্ন্যান্সের পথে হাঁটছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আপাতত ঠিক হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার অধীন কলেজগুলির পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ অর্থাৎ মার্কস আপলোড থেকে রেজাল্ট বেরোনো—পুরোটাই হবে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। পাশাপাশি প্রশাসনিক নানা কাজও যাতে সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে করা যায়, তারও সেট–আপ প্রায় তৈরি। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের আশা, অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ কাজ অনলাইনে সাড়া যাবে।

দেশের প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ নিয়ে বহুদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। সাধারণ কাজ মেটা‍নোর জন্যে বার বার কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ছুটে যেতে হয় অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী থেকে কলেজগুলির প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের। গবেষক থেকে পড়ুয়া, সবারই তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত যে পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে তাতে মার্কস আপলোড করা, সেই মার্কস পরীক্ষা নিয়ামকের দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছনো, ফাইনাল রেজাল্ট তৈরি—কোনও কিছুর জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ক্যাম্পাস বা কলেজ থেকে আর কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ছুটতে হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানরা খাতা চেক করার পরে অনলাইনে মার্কস আপলোড করবেন, পরীক্ষা নিয়ামকের দপ্তর তা খতিয়ে দেখে যদি কোনও ব্যাখ্যা চাইতে হয় তবে সেটাও হবে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। ফাইনাল মার্কসও আপলোড করা হবে অনলাইনে। সব মিলিয়ে কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই কাজগুলি অনেক স্বচ্ছ ভাবে করা যাবে বলেই মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়াও ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল, প্রোজেক্ট অ্যাপ্রুভাল, পড়ুয়া এবং গবেষকদের নানা প্রশাসনিক কাজেও অনলাইন ব্যবস্থাতেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তারও সিস্টেম তৈরি হচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী–সঙ্কটে ভুগছে, ফলে সাধারণ কাজের জন্যেও অনেক বেশি সময় যাচ্ছে। কাজ, গবেষণা বা ক্লাস ফেলে বার বার ছুটে যেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সদর দপ্তরে। অনলাইনে কাজ হলে কর্মী–সঙ্কটের ফলে তৈরি সমস্যা যেমন খানিকটা মিটবে, তেমনই সময় অনেকটা বাঁচবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post