রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে একের পর এক দলীয় নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ তুললেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, বেআইনি ভাবে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরেও পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়েই বুধবার রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
বুধবার সকালে দলের বেশ কয়েক জন কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের দফতরে পৌঁছন হুমায়ুন। সেখানে তিনি বেলডাঙা, নওদা এবং শক্তিনগর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য, রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে পরিকল্পিত ভাবে তাঁর দলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
হুমায়ুনের অভিযোগ, শুধু গ্রেফতারই নয়, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। এর ফলে কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘একতরফা ভাবে আমার দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তাঁদের বাড়িঘরে হানা দেওয়া হচ্ছে। এমন পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে শুধু আমার দল নয়, মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষও সরব হয়েছেন।’’
মানবাধিকার কমিশনের কাছে হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটের আগে পুলিশ-প্রশাসনের এই ভূমিকা রাজনৈতিক ভাবে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর চাপ তৈরি করছে। তাঁর দাবি, যে সমস্ত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা যাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশি অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সেই আবহে হুমায়ুনের এই অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানাগুলির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানানোর পর হুমায়ুন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি এবং প্রশাসনিক স্তরে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের যাতে ভয় দেখানো বা হেনস্থা করা না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।