প্রথমে কেতনের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন সিয়া! ভেস্তে যাওয়ায় চ্যাটজিপিটি ঘেঁটে খুনের ছক, দাবি তদন্তে


প্রথমে খুন নয়, পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই তাঁকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। কেতন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আদালতে জমা দেওয়া ৫,০৫৩ পাতার চার্জশিটে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনকে খুন করার আগে তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়ল এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধরী একাধিক পরিকল্পনা করেছিলেন।
কেতন হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কেতনের বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়ল, তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী এবং চেতনের বন্ধু রীতেশ হাঙ্গে। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই তিন জনেরই যোগ রয়েছে।
চার্জশিটে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কেতনকে কী ভাবে শাস্তি দেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রথমে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিকের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই সময় তাঁরা কেতনের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, শুরুতে কেতনকে খুন করার পরিকল্পনা ছিল না বলেই তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সেই পরিকল্পনা আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কেতনকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়ে খুন করার একটি পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে রীতেশ হাঙ্গে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু রীতেশের সেই বন্ধু পরিকল্পনায় আপত্তি জানান। ফলে বেঙ্গালুরু নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুন করার ছকও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
তদন্তকারীদের দাবি, একের পর এক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর সিয়া এবং চেতন নিজেরাই কেতনকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কী ভাবে গোটা ঘটনা ঘটানো হবে, কী ভাবে পুলিশের নজর এড়ানো সম্ভব এবং খুনের পর কী ভাবে নিজেদের বাঁচানো যাবে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়েও তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
চার্জশিটে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, খুনের পরিকল্পনা করার সময় অভিযুক্তেরা বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য দেখেছিলেন। সিনেমায় অপরাধ কী ভাবে দেখানো হয়েছে, তা থেকেও তাঁরা বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পুলিশের নজর এড়ানোর কৌশল জানতে বিভিন্ন পডকাস্টও শোনা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনকে খুন করার ছক কষতে কৃত্রিম মেধা-নির্ভর চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’-র কাছ থেকেও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। কী ভাবে পুলিশের নজর এড়ানো যায়, সেই সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, কেতন হত্যাকাণ্ডের আগে অভিযুক্তেরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সমস্ত বিষয় চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে চার্জশিটে থাকা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তে উঠে আসা এই তথ্যগুলির পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডে বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়লের নাম প্রথম থেকেই তদন্তের কেন্দ্রে ছিল। তাঁর সঙ্গে চেতন চৌধরীর সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ককে ঘিরে কেতনকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের দিকটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখেছেন। এবার আদালতে জমা পড়া বিপুল চার্জশিটে প্রথমে হাত-পা ভাঙার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে খুনের ছক তৈরির যে দাবি করা হয়েছে, তাতে তদন্তের গতিপথ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে এল।

Post a Comment

Previous Post Next Post