নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষ, কী কথা হল, যা জানালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা : কার দখলে তৃণমূলের 'জোড়া ফুল'? এই বিষয়ে শনিবারই 'ঋতব্রত তৃণমূল' ও 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর সঙ্গে বসেছে কমিশন। দিল্লিতে প্রথমে বৈঠক হয়  'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর সঙ্গে । কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়েই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তাঁরা  নির্বাচনের কমিশনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বললেন, 'তৃণমূল পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ড. বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বোধন করে ঋতব্রতর আক্রমণ, 'একজনের কথায় সব চলতে পারে না'।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজ্যের সাগর থেকে পাহাড়, দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁদের। সেই সঙ্গে ঋতব্রতর দাবি, বিকল্প প্রতীকের বিষয়েও আলোচনা হয়নি।  তিনি জানান, কমিশনকে তিনি এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছেন। 

ঋতব্রত বলেন, 'কারও মর্জির ওপর গণতন্ত্র চলে না। তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কমিশনের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। ভেতরে কী কী কথা হয়েছে , তা তো বিস্তারিত বলা যায় না। তবে একথা স্পষ্ট করে দিয়েছি, না খাতা , না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি - এভাবে আমরা চলি না। '
বৈঠকের আগেই ঋতব্রত - শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, 'মরা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, বাংলার ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছে। বাংলার জন প্রতিনিধি, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত সহ পুরসভা, জনপ্রতিনিধি ৮০% আমাদের সঙ্গে আছে। আমাদের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সভাপতি, মানে সমস্ত জেলার সভাপতি প্রায় ৯৯% জেলার সভাপতি আমাদের সঙ্গে আছে। জেলা পরিষদ আমাদের সঙ্গে আছে। সেহেতু আমরাই মূল তৃণমূল কংগ্রেস। ' 

অন্যদিকে, পাল্টা কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ , 'নির্বাচন কমিশন তারাও তো বিজেপিরই শাখা সংগঠন। ফলে আমি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। এই গোটা বিষয়টা মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আমরা সৈনিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে মানুষের সমর্থন সেখানে।' 

ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের পরই, কমিশনের অফিসে ঢোকেন কালীঘাট - তৃণমূলের সদস্যরা। আছেন, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন , সাগরিকা ঘোষ , প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে , ও একজন আইনজীবী।  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার কারা পাবে? শনিবারই কি সেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে? সেদিকেই এখন সবার নজর।  

Post a Comment

Previous Post Next Post