বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তাঁর বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং আর্থিক অনিয়ম-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই আবহেই তাঁর পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদকে ২০২৪ সালের গোড়ায় WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর যোগ্যতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগকারীদের দাবি, মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং অটিজ়ম বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর যে পরিচয় সামনে আনা হয়েছিল, তার কিছু অংশ নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।
শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, সায়মার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং নিজের পদ ও প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি আরও বেশি করে প্রকাশ্যে আসে। বিষয়গুলি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পরই WHO-এর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগগুলির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তাঁকে হেয় করতেই এই ধরনের দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে WHO-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এমন অভিযোগ এবং পরবর্তী তদন্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, অভিযোগগুলির কতটা সত্যতা রয়েছে এবং তাঁর পদত্যাগের সঙ্গে সেই তদন্তের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না—এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।