কানপুরের ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শ্বশুরকে খুনের ঘটনায় তাঁর পুত্রবধূ শালু মিনোচার বিরুদ্ধে পরিচারক বিশালকে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, শালু ও বিশালের হোয়াট্সঅ্যাপ কথোপকথন থেকেই এই যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে।
ঘটনার পর শালু এবং বিশাল— দু’জনেরই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সেই ফোনে থাকা ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীদের হাতে আসে দু’জনের কথোপকথন। পুলিশ সূত্রের খবর, ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচাকে খুনের ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে থেকেই শালুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিশালের।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে বিশালই নিয়মিত শালুকে হোয়াট্সঅ্যাপে মেসেজ পাঠাতেন। ‘গুড মর্নিং’, ‘গুড নাইট’-এর মতো বার্তা পাঠানো হলেও প্রথম দিকে সেগুলির কোনও উত্তর দিতেন না শালু। কিন্তু বিশাল নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন।
এরপর প্রায় তিন মাস আগে বদলে যায় পরিস্থিতি। বিশালের মেসেজের জবাব দিতে শুরু করেন শালু। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে নিয়মিত ফোন এবং হোয়াট্সঅ্যাপে কথাবার্তা শুরু হয়। তদন্তকারীরা সেই কথোপকথনের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, কথোপকথনে শালুর তরফে বিশালকে প্রশংসা করার মতো বার্তাও ছিল। ‘তুমি খুব স্মার্ট’-এর মতো মন্তব্যও নাকি করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই যোগাযোগের আড়ালেই ধীরে ধীরে এমন একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, যার পরিণতিতে বিনীত মিনোচার খুনের পরিকল্পনা সামনে আসে।
তবে ঠিক কী ভাবে কথোপকথন থেকে খুনের পরিকল্পনার দিকে বিষয়টি গড়ায়, শালু বিশালকে আদৌ কী নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং খুনের ঘটনায় তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত মোবাইলের চ্যাট, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
শ্বশুর খুনের ঘটনায় পুত্রবধূ ও পরিচারকের মধ্যে এই যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। পুলিশের হাতে থাকা ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই গোটা ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।