মাঝরাতে কমান্ডো অভিযান। প্রায় ছ’ঘণ্টার টানটান নাটকের পর এনকাউন্টারে মৃত্যু হল স্ত্রী, পুত্র-সহ দুই পুরোহিতকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির। মঙ্গলবার রাতে উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্তের হাতে পণবন্দি তিন শিশুকে উদ্ধারের জন্য গভীর রাতে অভিযান চালায় কমান্ডো বাহিনী। গুলির লড়াইয়ের পর মৃত্যু হয় অরবিন্দ সিংয়ের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজমগড়ের শম্ভুপুর গাজির বাসিন্দা অরবিন্দ। বছর দুয়েক আগে গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর ভাইয়ের। এরপর থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অরবিন্দের স্ত্রী ববিতা এবং তাঁর মা বাড়িতে শান্তিযজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতে আপত্তি ছিল অরবিন্দের।
অরবিন্দ বাড়িতে না থাকার সুযোগে শনিবার থেকে শুরু হয় শান্তিযজ্ঞ। মঙ্গলবার ছিল যজ্ঞের চতুর্থ দিন। অভিযোগ, আচমকাই বাড়িতে ফিরে যজ্ঞ চলতে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অরবিন্দ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দুই পুরোহিতকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘর থেকে নিজের রিভলভার বের করেন অরবিন্দ। অভিযোগ, প্রথমে স্ত্রী ববিতাকে গুলি করেন তিনি। এরপর দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক (৬০) এবং অখিলেশ মিশ্র (৫০)-কে গুলি করেন। ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
এরপর নিজের তিন সন্তানকে পণবন্দি করে বাড়িতে আটকে রাখেন অরবিন্দ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। শিশুদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য শুরু হয় অভিযান। প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে চলে টানটান পরিস্থিতি।
শেষ পর্যন্ত মাঝরাতে কমান্ডো বাহিনী অভিযান চালায়। পুলিশ ও অরবিন্দের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। পরে তিন শিশুকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।