পরীক্ষাকেন্দ্র ছেড়ে যেতে বলা হয় সাহিলকে! প্রকাশ্যে নয়া ফুটেজ, পরের ৪০ মিনিট কী করেছেন, ভাবাচ্ছে পুলিশকে


আইআইটি বম্বের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর তদন্তে নতুন সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পেয়েছে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে হস্টেলে পৌঁছনোর আগের সময়টুকুতে সাহিল কী করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষা চলাকালীন সাহিলকে পরীক্ষাকেন্দ্রে কয়েকটি প্রশ্ন করা হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, পৌনে ১টা নাগাদ তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে চলে যেতে বলা হয়েছিল।
এর পর ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে হস্টেলের দিকে যান সাহিল। পুলিশের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ২৫ মিনিট নাগাদ হস্টেলের ঘরে ঢোকেন তিনি। অর্থাৎ পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর পর প্রায় ৪০ মিনিট তাঁর গতিবিধি এখনও স্পষ্ট নয়। সেই সময় তিনি ক্যাম্পাসের কোথায় ছিলেন, কারও সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না— তা জানতে বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিলের দেহ তাঁর হস্টেল ঘর থেকে উদ্ধার হয়। তাঁর মৃত্যুর পরেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। সাহিলের বাবা-মা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এর আগে আইআইটি বম্বে জানিয়েছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকে সাহিল চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্নপত্রের ছবি আপলোড করেছিলেন এবং সেখান থেকে উত্তর সংগ্রহ করছিলেন। সেই সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে সাহিলের কেরিয়ারে ওই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল আইআইটি বম্বে।
কর্তৃপক্ষের সেই বিবৃতি ঘিরেই পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। ১৮ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। রবিবার রাতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পড়ুয়াদের দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে সাহিলের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশিত প্রথম বিবৃতির জন্য ক্ষমাও চায় আইআইটি বম্বে। এর মধ্যেই নতুন সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তে আরও কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post