দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর রাজ্যের দুই উপকূলবর্তী জেলা। এর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা থেকে খেজুরি পর্যন্ত সমুদ্রোপকূলের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার। এক সময়ে দীর্ঘ এই উপকূল জুড়ে বালিয়াড়ি ও ম্যানগ্রোভ বলয় দেখা গেলেও এখন তা প্রায় অদৃশ্য। যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢালের মতো উপকূলকে রক্ষা করতো। কিন্তু বালিয়াড়ি ও স্বাভাবিক বনাঞ্চল কেটে একের পর নির্মাণ হলেও তৈরি হয়নি নতুন সমুদ্রবাঁধ। বর্তমানে দীর্ঘ উপকূল জুড়ে সমুদ্রবাঁধের অস্তিত্ব নেই বললে চলে। যদিও সমুদ্র ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস আটকানোর জন্য দিঘা, তাজপুর–শঙ্করপুর এলাকায় ব্ল্যাক স্টোন ও কংক্রিটের বাঁধ তৈরি হলেও উপকূলের বাকি অংশে নতুন করে সমুদ্রবাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যতটুকু সমুদ্রবাঁধের অস্তিত্ব রয়েছে, তা খুব দুর্বল। বড় ধরমের জলোচ্ছ্বাস আটকানোর ক্ষমতা নেই তার। ফলে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উপকূলের মানুষজন।
রামনগরের স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক ও গবেষক প্রীতিরঞ্জন মাইতি বলেন, ‘উপকূল জুড়ে বাঁধ না থাকলেও প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বালিয়াড়ি বাঁধের মতো সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসকে আটকাতো। এখন নানা করণে সেই বালিয়াড়ির প্রাচীর অদৃশ্য। আমরা ভুলে গিয়েছি, ১৭৩৭ ও ১৮৬৪তে আয়লা, ইয়াস, উম্পুনের থেকেও ভয়ঙ্কর সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল উপকূল এলাকায়। কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবু আমরা সতর্ক হইনি। স্বাধীনতার পরে সমুদ্রবাঁধ নির্মাণ কিংবা বালিয়াড়ি রক্ষার কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি কোনও সরকারের তরফেই।’
পরিবেশপ্রেমী সোমনাথ দাস অধিকারী বলেন, ‘দিঘার অতি পরিচিত সেই বালিয়াড়ি এখন আর নেই। অথচ আশির দশকে সমুদ্রকলমি ও কেয়া জঙ্গলে ঢাকা বালিয়াড়ি প্রাচীরের মতো উপকূলকে রক্ষা করতো। তাই জেলার বিস্তীর্ণ উপকূল এলাকার সুরক্ষায় অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ জরুরি। সরকার নিশ্চয়ই এই বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।’