ইসকন আর আইআইটি কানপুরের চুক্তি! বিতর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরাতে হল সমাজমাধ্যমের পোস্টও


কানপুর: পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার লক্ষ্যে ইসকনের সঙ্গে সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর করেছে আইআইটি কানপুর। আর সেই চুক্তি ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় একটি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে এই ধরনের সহযোগিতা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং তা প্রতিষ্ঠানের ‘বৈজ্ঞানিক মনোভাব’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়া, প্রাক্তনী-সহ অনেকে।
জানা গিয়েছে, গত শনিবার আইআইটি কানপুরের তরফে দুই বছরের এই MoU-এর কথা সমাজমাধ্যমে জানানো হয়। চুক্তির আওতায় আগ্রহী পড়ুয়াদের জন্য স্বেচ্ছামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করতে পারবে ইসকন। আত্ম-পরিচালনা, সুস্থতা, ব্যক্তিগত বিকাশ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক কোর্স চালানোর সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কোর্সে আটটি করে এক ঘণ্টার সেশন রাখার কথা জানানো হয়েছে। অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক।
তবে ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। একটি ধর্মীয় সংগঠনকে আইআইটি-র মতো উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের ‘ওয়েলনেস’ সংক্রান্ত কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে নানা মত প্রকাশ করেন নেটিজ়েনদের একাংশ।
বিতর্কের মধ্যেই সোমবার আইআইটি কানপুরের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই চুক্তি সংক্রান্ত পোস্টগুলি মুছে দেওয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি বাতিল করেছে, এমন কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
আইআইটি কানপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক মনীন্দ্র আগরওয়াল অবশ্য চুক্তির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি পড়ুয়াদের সাহায্য করার জন্য একাধিক কর্মসূচি চালানো হয়। বাইরে কোনও সংগঠন পড়ুয়াদের সহায়তা করতে চাইলে প্রতিষ্ঠান সেই প্রস্তাব বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগটি পড়ুয়াদের সংগঠনের উদ্যোগেই নেওয়া হয়েছিল।
পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন আইআইটি-তে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সময়েই এই চুক্তি সামনে এসেছে। ফলে আইআইটি কানপুরের ইসকনের সঙ্গে এই সহযোগিতা শুধু একটি ক্যাম্পাস-ভিত্তিক উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের ওয়েলনেস কর্মসূচিতে ধর্মীয় বা বেসরকারি সংগঠনের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত—সেই বৃহত্তর বিতর্কও সামনে এনেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post