কলকাতা : ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বিপুল পরিমাণে নগদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের অফিসে গিয়ে এই দুর্নীতির টাকা পৌঁছে দিতেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় আদালতে পেশ করা নথিতে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে CID
সরকারি জমির চরিত্র বদল করে বিক্রি, কোটি কোটি টাকার লেনদেন - শালবনি-জমি জালিয়াতি মামলার 'মোডাস অপারেন্ডি' থেকে টাকার লেনদেন, গোটাটাই রয়েছে আতসকাচের তলায়। আদালতে পেশ করা নথিতে এমনই জানাল CID. শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় শুক্রবার ধৃত সুমিত রায়কে ৮ দিনের CID হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত। আদালতে পেশ করা নথিতে CID-র তরফে দাবি করা হয়েছে, জমি দুর্নীতির তদন্তে নেমে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় জমা পড়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ। CID-র দাবি, গ্রেফতারি আগে জিজ্ঞাসাবাদে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, সবই অস্বীকার করেছেন সুমিত রায়। তিনি অস্বীকার করলেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের থেকে এই সংক্রান্ত একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বিশাল সরকারি জমিরই চরিত্র বদলে, প্লট করে, লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য়ে পালাবদলের পর, ২০২৬ সালের ৫ জুন শালবনি থানায় এই নিয়ে অভিযোগ জানান শালবনির বাসিন্দা শেখ ইমরান। পরদিনই, অর্থাৎ ৬ জুন, জমি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। সেই সময়ই পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, সুজয় হাজরাকে জেরা করে উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। বিভিন্ন তথ্য় থেকে জানা গেছে, সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের মধ্য়ে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, মেদিনীপুর আদালতে এই সংক্রান্ত যে নথি পেশ করেছে CID, সেখানে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে নেমে জানা গেছে, জমি দুর্নীতির টাকার ভাগ গেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের কাছেও। এমনকী তাঁর অফিসে গিয়ে দুর্নীতির টাকা পৌঁছে দিতেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। তবে, শালবনি-মামলায় নেপথ্যে রয়েছেন আর কারা? সবটা জানতে যাচাই করা হচ্ছে সুমিত রায়ের বয়ান।