# জার্মানিতে বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু তিন ভারতীয়ের! খুনের সন্দেহে গ্রেফতার রোমানিয়ান নাগরিক
জার্মানিতে বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হল তিন ভারতীয় নাগরিকের। মৃত তিন জনই কেরলের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বুধবার ভোরে জার্মানির বোখুম শহরের একটি বহুতল আবাসনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোন দমকলকর্মীরা। পরে তিনতলার একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় তিন ভারতীয়ের দেহ। এই ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জন মালয়ালি ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আগুন ইচ্ছাকৃত ভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। সেই সূত্রেই খুনের অভিযোগে ৪১ বছর বয়সি এক রোমানিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোখুম শহরের পোস্টস্ট্রাসে অবস্থিত ওই বহুতল আবাসনে বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ আগুন লাগে। ঘুমের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলের একাধিক দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আবাসনের ভিতরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করার কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। উদ্ধারকাজ চলাকালীনই তিনতলার একটি ঘর থেকে তিন ভারতীয়ের দেহ উদ্ধার হয়। কী ভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
**মৃত তিন জনই কেরলের বাসিন্দা**
এই ঘটনায় মৃত তিন জনই ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি কেরলে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। বিদেশের মাটিতে একই ঘটনায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মৃতদের পরিচয়, বয়স এবং তাঁরা কত দিন ধরে জার্মানিতে বসবাস করছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
অগ্নিকাণ্ডে আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জন মালয়ালি ছাত্রের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাকি আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার সময় আবাসনের ভিতরে কত জন ছিলেন এবং কী ভাবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
**ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন লাগানোর সন্দেহ পুলিশের**
এই ঘটনার তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আগুন লাগার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা সামনে আসায়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ, আগুন নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃত ভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। বোখুম পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পিছনে ইচ্ছাকৃত কাজের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই ঘটনাটিকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন তদন্তকারীরা।
জার্মান সংবাদমাধ্যম এন-টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আবাসনেই থাকতেন ৪১ বছর বয়সি এক রোমানিয়ান নাগরিক। তাঁকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, আগুন লাগানোর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কী এবং মৃত তিন ভারতীয়ের সঙ্গে তাঁর কোনও পূর্বপরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
**দুর্ঘটনা, না কি পরিকল্পিত অপরাধ—তদন্তে পুলিশ**
একই আবাসনে আগুন লেগে তিন জনের মৃত্যু এবং আরও পাঁচ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগুনের উৎস কোথায় ছিল, কী ভাবে তা ছড়িয়ে পড়ল এবং আবাসনের বাসিন্দারা সময়মতো বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আগুন লাগার ঘটনায় কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতেও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত রোমানিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জার্মানিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একই আবাসনে তিন ভারতীয়ের মৃত্যু এবং একাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও পরিকল্পিত অপরাধ।