আরও বিপাকে জ্ঞানেশ কুমার, মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের সুইসাইড নোট মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কেরলম সরকার



তিরুঅনন্তপুরম: SIR-এ ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই আবহে আরও বিপাকে জ্ঞানেশ কুমার। প্রায় দু’দশক আগের একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কেরলম সরকার। কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দিলেন।
কেরলমের পূর্ত দফতরের সচিব সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিনের সুইসাইড নোটেও জ্ঞানেশের উল্লেখ ছিল। Indo-Malaysia PATI-BEL যৌথ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন লি। ওই প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ।
Indo-Malaysia PATI-BEL যৌথ প্রকল্পের আওতায় ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছিল। প্রকল্পের চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার ছিলেন লি। নিজের সুইসাইড নোটে জ্ঞানেশের নাম লিখে যান তিনি। সেই সময় তদন্ত গতি পায়নি সেভাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে বদলি করা হয়েছিল জ্ঞানেশকে। এতদিন পর বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। কংগ্রেস নেতা এম বেণুগোপাল নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

সেই মতোই কেরলম সরকার তদন্তের নির্দেশ দিল। ভিজিল্যান্স বিভাগের পাশাপাশি, দুর্নীতি দমন শাখাকেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দফতরের সচিব থাকাকালীন পূত্র দফতরের কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ায় জ্ঞানেশ অনিয়ম করেছিলেন বলে অভিযোগ। প্রকল্পের বাজেট প্রথমে ২১৬ কোটি টাকা রাখা হলেও, পরে তা বেড়ে হয় ৩৩০ কোটি টাকা। নিজের সুইসাইড নোটে দুর্নীতি, অব্য়বস্থার পাশাপাশি, পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগও তুলেছিলেন লি। ভারত থেকে মালয়েশিয়া ফিরে গিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ওই সুইসাইড নোটে নাম ছিল জ্ঞানেশের।

বর্তমানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ। SIR নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারই একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ। তাঁদের কথা কানে তোলা তো দূর, বহু সিদ্ধান্তের কথা জানানো পর্যন্ত হয়নি তাঁদের। ফর্ম-৬ রদবদল থেকে গোয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ‘বেআইনি’ সিদ্ধান্ত নিয়ে বার বার আপত্তি জানানো হলেও, কর্ণপাত করেননি জ্ঞানেশ। সেই নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবকে ১০ মাসে ১৪টি চিঠি লেখেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার। 

SIR নিয়ে গোড়া থেকেই জ্ঞানেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন বিরোধীরা। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের পর্দাফাঁস করার পর, নতুন করে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে সরব হয়েছেন সকলে। ককরোচ জনতা পার্টির ডাকেও পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি তুলছেন তাঁরা। আর সেই আবহেই পুরনো মামলায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কেরলম সরকার। কেরলম সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে বিজেপি। যদিও চেন্নিথালার বক্তব্য, “সরকার ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকতে পারে না। SIR এবং অন্য ইস্যুগুলি রয়েছেই। তবে এটা আলাদা বিষয়।”

Post a Comment

Previous Post Next Post