৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, চিনকে হারিয়ে এশিয়াডে হকিতে সোনা ভারতের মেয়েদের



১৯৮২ সালে পর ২০২৬, মাঝে কেটে গিয়েছে ৪৪ বছর। অবশেষে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারতের মহিলা হকি দল। এই মাঝের ৪৪ বছরে একাধিকবার ফাইনালে উঠেও হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার জাপানের কাকামিগাহারার অ্যাস্ট্রোটার্ফে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন সালিমা তেতে, সবিতা পুনিয়া ও লালরেমসিয়ামিরা। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ মেগা ফাইনালে শক্তিশালী চিনকে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাস্ত করে চার দশকের খরা কাটিয়ে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিল ভারতের মহিলা হকি দল।

শুরু থেকে চাপে চিন

এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া এই মেগা ফাইনালের শুরু থেকেই বল পজেশন ও আক্রমণে চাপ বজায় রেখেছিল চিন। কিন্তু খেলার গতির বিপরীতেই ম্যাচের দশম মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা ২৬ বছর বয়সি তারকা লালরেমসিয়ামি মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে একাই চিনের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। বাঁ প্রান্ত থেকে নেওয়া তাঁর নিখুঁত তীব্র স্ট্রাইক সরাসরি চিনের জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।

তবে সোনা জয়ের রাস্তা মোটেই সহজ ছিল না। পিছিয়ে পড়ে ভারত বক্সে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানাতে শুরু করে চিন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের চতুর্থ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোললাইন ক্লিয়ার করে ভারতকে নিশ্চিত বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচান নবনীত কৌর। এর কয়েক মিনিট পরেই চরম নাটকের সৃষ্টি হয়—বক্সে ফাউলের জেরে চিনের পক্ষে পেনাল্টি স্ট্রোক দেন আম্পায়ার। কিন্তু ভারতের সামনে তখন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক সবিতা পুনিয়া। চিনের ঝাং ইংয়ের নেওয়া স্পট-শট নির্ভুল অনুমানে বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে আটকে দেন সবিতা, যা ফাইনালের ভাগ্য গড়ে দেয়।

তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোকের আবেদন উঠলেও ভারতের সফল ভিডিয়ো রেফারালের পর তা পেনাল্টি কর্নারে রূপান্তরিত হয়। সেই পেনাল্টি কর্নারটি শরীর ছুড়ে দিয়ে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ব্লক করেন অধিনায়ক সালিমা তেতে, যদিও এতে তিনি হাতে কিছুটা চোট পান। চিনের একাধিক দূরপাল্লার শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অন্তিম কোয়ার্টারের শেষ তিন মিনিটে চরম ঝুঁকি নেয় চিনা শিবির। তারা গোলরক্ষককে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে অতিরিক্ত একজন ফিল্ডার নামিয়ে ১১ জনে ভারতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই সময়ে চিনের পোস্ট ফাঁকা পেয়ে ভারত একটি নিশ্চিত কাউন্টার-অ্যাটাকের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও, বাকি সময় ঠান্ডা মাথায় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। শেষ মিনিটে চিনের একটি বুলেট গতির শট ফের বুট দিয়ে আটকে দেন সবিতা। শেষ বাঁশি বাজতেই ইতিহাস ছুঁয়ে ফেলেন ভারতের সোনার মেয়েরা। ১৯৮২-র স্মৃতি ফিরিয়ে কাকামিগাহারার মাঠে তখন ভারতের ‘চক দে’ উৎসব।

Post a Comment

Previous Post Next Post