চোখের নিমেষে আগুনে পুড়ে ছাই মাথা গোঁজার ঠাঁই, শীতের রাতে গৃহহীন শতাধিক পরিবার


গতকালের পর ফের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভোরে নিউটাউনের একটি বহুতলের একাংশে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই বহুতলের একটি অংশে একটি বেসরকারি সংস্থার অফিস রয়েছে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। ভোরবেলায় বহুতলের উপরের তলার কয়েকটি জানলা দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

এদিকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন নোনাডাঙা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল কলকাতায়। বুধবার সন্ধ্যায় আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আনন্দপুর এলাকার ওই বস্তিতে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে শতাধিক ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শীতের সন্ধ্যায় ভিটেমাটি হারিয়ে শতাধিক পরিবার কার্যত গৃহহীন হয়ে পড়ে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। অধিকাংশ ঝুপড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় আগুনের উৎসস্থল চিহ্নিত করতে সমস্যায় পড়েন দমকলকর্মীরা। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খান। পুলিশ কমিশনার জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আপাতত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মনোজ ভার্মা বলেন, ‘‘বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ আনন্দপুর বস্তিতে আগুন লাগার খবর আসে। পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। ফরেনসিক দল আসার পর আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’’ তিনি আরও জানান, প্রায় একশোটি বাড়ি আগুনে পুড়ে গিয়েছে।

চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যেতে দেখে বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আগুনের মধ্যে ঢুকে কোনওমতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। বহু মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনায় কেউ আটকে পড়েননি এবং সকলেই নিরাপদ রয়েছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post