এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হারে এক নম্বরে পূর্ব মেদিনীপুর। আবার শিক্ষায় আগুয়ান এই জেলা নাবালিকা বিবাহেরও শীর্ষে। ২০১৯-’২০–তে জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের রিপোর্ট যথেষ্ট উদ্বেগজনক। নাবালিকা বিবাহে দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বাল্যবিবাহে রাজ্যে এগিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর।
জেলায় সব চেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা রয়েছে পাঁশকুড়ায়। রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু থাকলেও নাবালিকা বিবাহ পুরোপুরি আটকানো যাচ্ছে না। নাবালিকা বিবাহের জেরে পূর্ব মেদিনীপুরে অকাল মাতৃত্বের সংখ্যাও বাড়ছে। যা রীতিমতো উদ্বেগের। নাবালিকা বিয়ে রোধে সরকারের তরফে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জেলা পুলিশের তরফেও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ নামে এক কর্মসূচি নেওয়া হয়। যা শুরু করা হয় স্কুল থেকে। এর মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে দেওয়া হয় একটি করে বড় আকারের ‘ড্রপ বক্স’। সেই বাক্সে লেখা ছিল ‘মনের কথা-অভিযোগ বাক্স’। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা বিয়ের অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় বহু ক্ষেত্রেই সামনে এসেছে, জোর করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা। দেখা গিয়েছে, আপত্তি থাকলেও তা কোথাও কাউকে জানানোর সুযোগ পায়নি ওই নাবালিকা।
এমনকী তাদের উপরে যৌন নির্যাতনের কোনও ঘটনা ঘটলেও লজ্জায় কাউকে বলতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে মনের নানা প্রশ্ন এবং অভিযোগ নাবালিকারা যাতে নিজের মতো করে জানাতে পারে, সে জন্যই স্কুলে স্কুলে ওই ‘ড্রপ বক্স’ চালু করা হয়। এই ব্যবস্থায় নাবালিকারা তাদের সমস্যার কথা লিখিত আকারে জানিয়ে জমা দিতে পারবে ওই বাক্সে। সেই চিঠি দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানাবেন। অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।