সরকারি হাসপাতালেও এ বার নো রিফিউজ়াল পলিসি, বেড, অ্যাম্বুল্যান্স নিয়েও গুচ্ছ নির্দেশ



স্বাস্থ্যের প্রথম বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তা ও কলকাতার আটটি মেডিক্যাল কলেজ ও টিচিং ইনস্টিটিউশনের কর্তাদের নিয়ে এসএসকেএমে আয়োজিত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যান শূন্যে নামাতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। তার জন্য শুধু সরকারি হাসপাতালে বেড বাড়ালেই শুধু হবে না। সরকারি হাসপাতালে বেড ফুরোলে প্রয়োজনে সরকারি তত্ত্বাবধানে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ এবং কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হবে রোগীকে। তার জন্য তৈরি করা হবে পুল। কিন্তু রোগী ফেরানো চলবে না।লক্ষ্য, রোগীভর্তি ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ক্ষেত্রে দালালরাজ ষোলো আনা বন্ধ করা। অ্যাম্বুল্যান্সে যেমন খুশি রেটের অসাধু ব্যবসা বন্ধ করতেও আগামী দিনে সব বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সকে একছাতার নীচে একটি সরকারি অ্যাপ নির্ভর পুলের আওতায় আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। যাতে অ্যাপ-ক্যাবের ধাঁচে নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্ধারিত ভাড়ার অ্যাপ-নির্ভর বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দিতে বাধ্য থাকে যে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স। মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির চিকিৎসক–বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ প্রমুখ।

২০১১–তে রাজ্যে পালাবদলের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য দপ্তর নিজের হাতে রেখেছিলেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপও করেছিল তৃণমূল সরকার। তবে তারপরেও বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যান বন্ধ হয়নি। নতুন সরকার অবশ্য প্রথম বৈঠকেই স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, রোগীস্বার্থই তাদের কাছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি। স্বাস্থ্য দপ্তর নিজের হাতে রেখে, শপথ নেওয়ার পরে সপ্তাহ ঘোরার আগেই শুক্রবার এসএসকেএমে স্বাস্থ্য–বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। এবং বৈঠকের পরেই জানা গেল চমকে দেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তের কথা। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি হাসপাতালের রোগী প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে ১০০ শতাংশ নির্মূল করার জন্য পরিকল্পনা।

এসএসকেএমের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের ন’তলায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘর রয়েছে, সেখানেই ঘণ্টাখানেকের বৈঠক হয় স্বাস্থ্য ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে। বৈঠক শেষ করেই শুভেন্দু বেরিয়ে যান। বৈঠকের পরে বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ইন্দ্রনীল ও বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত সংবাদমাধ্যমকে বৈঠকের সারাংশ তুলে ধরেন। ইন্দ্রনীল জানান, হাসপাতালের সুরক্ষাও আলোচিত হয়েছে। ঠিক হয়েছে, সব কর্মী, আধিকারিক, চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের সচিত্র পরিচয়পত্র গলায় ঝোলাতে হবে এবং বিষয়টি ৩১ মে–র মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোনও রোগীকে ফেরানো যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব সব সরকারি হাসপাতালে বেড বাড়াতে হবে। পরিকাঠামোর সার্বিক সম্প্রসারণ শুরু হবে দ্রুত।’

কিন্তু কী ভাবে সব রোগীকে ঠাঁই দেওয়া সম্ভব? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শারদ্বত বলেন, ‘বেড নেই, এমনটা নয়। অনটনটা যা আছে, তার চেয়ে বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে দালালরাজ টিকে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, রোগী ফেরানো ও দালালরাজ শেষ করার ব্যাপারে রাজ্য সরকার জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সে কথা তিনি সকলকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’ স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালের ভর্তি ও খালি বেডের রিয়েল–টাইম মনিটরিং হবে বলেও জানান বিধাননগরের চিকিৎসক–বিধায়ক। তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে যে সব রোগীর সত্যিই স্থান সঙ্কুলান হবে না, তাঁদেরও ফেরানো যাবে না। পরিকল্পনা রয়েছে, ওই সব রোগীকে বেসরকারি ও কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের বেডে ভর্তি করা হবে সরকারি উদ্যোগে। তার জন্য ওই সব হাসপাতালের কিছু বেড নিয়ে একটি পুল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেননা, ওই হাসপাতালগুলিতে তুলনায় ভিড় কম।

Post a Comment

Previous Post Next Post