২০১১–তে রাজ্যে পালাবদলের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য দপ্তর নিজের হাতে রেখেছিলেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপও করেছিল তৃণমূল সরকার। তবে তারপরেও বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যান বন্ধ হয়নি। নতুন সরকার অবশ্য প্রথম বৈঠকেই স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, রোগীস্বার্থই তাদের কাছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি। স্বাস্থ্য দপ্তর নিজের হাতে রেখে, শপথ নেওয়ার পরে সপ্তাহ ঘোরার আগেই শুক্রবার এসএসকেএমে স্বাস্থ্য–বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। এবং বৈঠকের পরেই জানা গেল চমকে দেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তের কথা। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি হাসপাতালের রোগী প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে ১০০ শতাংশ নির্মূল করার জন্য পরিকল্পনা।
এসএসকেএমের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের ন’তলায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘর রয়েছে, সেখানেই ঘণ্টাখানেকের বৈঠক হয় স্বাস্থ্য ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে। বৈঠক শেষ করেই শুভেন্দু বেরিয়ে যান। বৈঠকের পরে বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ইন্দ্রনীল ও বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত সংবাদমাধ্যমকে বৈঠকের সারাংশ তুলে ধরেন। ইন্দ্রনীল জানান, হাসপাতালের সুরক্ষাও আলোচিত হয়েছে। ঠিক হয়েছে, সব কর্মী, আধিকারিক, চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের সচিত্র পরিচয়পত্র গলায় ঝোলাতে হবে এবং বিষয়টি ৩১ মে–র মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোনও রোগীকে ফেরানো যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব সব সরকারি হাসপাতালে বেড বাড়াতে হবে। পরিকাঠামোর সার্বিক সম্প্রসারণ শুরু হবে দ্রুত।’
কিন্তু কী ভাবে সব রোগীকে ঠাঁই দেওয়া সম্ভব? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শারদ্বত বলেন, ‘বেড নেই, এমনটা নয়। অনটনটা যা আছে, তার চেয়ে বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে দালালরাজ টিকে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, রোগী ফেরানো ও দালালরাজ শেষ করার ব্যাপারে রাজ্য সরকার জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সে কথা তিনি সকলকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’ স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালের ভর্তি ও খালি বেডের রিয়েল–টাইম মনিটরিং হবে বলেও জানান বিধাননগরের চিকিৎসক–বিধায়ক। তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে যে সব রোগীর সত্যিই স্থান সঙ্কুলান হবে না, তাঁদেরও ফেরানো যাবে না। পরিকল্পনা রয়েছে, ওই সব রোগীকে বেসরকারি ও কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের বেডে ভর্তি করা হবে সরকারি উদ্যোগে। তার জন্য ওই সব হাসপাতালের কিছু বেড নিয়ে একটি পুল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেননা, ওই হাসপাতালগুলিতে তুলনায় ভিড় কম।