শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, ‘‘অভয়া কাণ্ডে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ আমাদের কানে এসেছিল, নির্যাতিতার মায়ের তরফে, তা হল তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ পুলিশ অফিসার পরিবারকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের এই প্রস্তাব। এটা কারা, কেন বলেছিল, রাজ্য সরকারের কথায় নাকি অন্য কিছু – এসবের তদন্ত করা প্রয়োজন, তদন্ত হবে। আর যাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, সেসব অফিসারদের সাসপেন্ড করে তারপর তদন্ত শুরু করা দরকার। নাহলে তদন্তে স্বচ্ছতা থাকবে না।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতা পুলিশের তৎকালীন তিন আইপিএস অফিসার – বিনীত গোয়েন (বর্তমান এডিজি, আইবি), তৎকালীন ডিসি, সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি, নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হল।
শুভেন্দু অধিকারী এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর কথায়, ‘‘বিশেষ করে সেসময় একজন ডিসির কথা বলতে হবে। আর জি করের ঘটনার সময় রোজ রোজ সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর মুখের ভাষা, শরীরী ভাষা যা ছিল, তা বাংলার পক্ষে খুব একটা সুখকর ছিল না। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠতেই পারে। তিনি তো সেসময় কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র ছিলেন না, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি। অন্তত কেউ কোনও কাগজে-কলমে তাঁকে দায়িত্ব দেয়নি। তাহলে কি তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এই কাজ করেছিলেন, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।” শুভেন্দুর এই কথা থেকেই স্পষ্ট, যদি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ওই সাংবাদিক বৈঠক করে থাকেন, তাহলে তিনিও তদন্তের উর্ধ্বে থাকবেন না।