জমে উঠেছে জীতু সায়নীর বাকযুদ্ধ - নাগরিক মহল রসিয়ে উপভোগ করছেন



জমে উঠেছে জীতু সায়নীর বাকযুদ্ধ - নাগরিক মহল রসিয়ে উপভোগ করছেন 

  রাজনীতিকে জোর করে শিল্পের মধ্যে নিয়ে এসে বেশ নিজেদের TRP বাড়ানো যায়, তা বিলক্ষণ জানেন জীতু ও সায়নী। আর সায়নী তো এখন তৃণমূলের বড় নেতা। রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে বিগত দিন কয়েক ধরেই সেলেবপাড়ার অন্দরে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে বহাল তবিয়তে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থেকে বদলে যাওয়া দর্শন নিয়ে কেউ কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ! আর সেই প্রেক্ষিতেই সোশাল পাড়ার অভিধানে বর্তমানে ‘পাল্টিবাজ’, ‘পরজীবী’ থেকে ‘সুবিধেবাদী’র মতো শব্দগুলো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এবার ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন জীতু কমল এবং সায়নী ঘোষ। ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত’, বলে অভিনেতাকে তোপ সায়নীর। পালটা ‘পাল্টিবাজ’ বলে জবাব জীতুর। অনীক দত্তর পরিচালনায় ‘অপরাজিত’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছিলেন জীতু-সায়নী। সেই সূত্রেই বন্ধুত্ব! তবে রাজ্যের বদলে যাওয়া সরকারের সঙ্গে বদলে গেল তাঁদের বন্ধুত্বের সমীকরণও। গত দিন কয়েক ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে রাজনীতি, ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগ তুলে কখনও ‘তৃণমূল ঘেষা’ ফোরামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন জীতু, তো কখনও বা আবার সিনেইন্ডাস্ট্রির অগ্রজ অভিনেতাদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করতে পিছপা হননি! 

 সম্ভবত সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার রাতে আচমকা জীতু কমলকে অতীত কখন মনে করিয়ে আক্রমণ শানান সায়নী ঘোষ। নেত্রী-অভিনেত্রীর দাবি, বছর দুয়েক আগে বিরাটির ঘটনার দিন জীতু থানায় গিয়ে ‘আমি কে জানেন?’ বলে দাদাগিরি করেছিলেন। সেকথা মনে করিয়েই সায়নী বলেন, “আপনি এবং আপনার প্রাক্তন স্ত্রী একটি সমস্যায় পড়ে আমাকে থানা থেকে ফোন করেন, তখন আমি সাংসদও নই। আপনার প্রথম দাবি ছিল যে আপনার মতো বড় মাপের সেলিব্রিটিকে কেন এতক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছে। আপনি থানায় ঢোকার থেকেই পুলিশদের সাথে ‘তোমরা জানো আমি কে?’ ধরণের অসভ্যতা করে চলেছিলেন। ‘হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা’ জাতীয় অনেক ডায়লগ মারছিলেন কিন্তু আপনার স্ত্রী চিন্তায় ছিল। সুরক্ষা নিশ্চিত না করা অবধি আপনাকে বলেছিলাম রাস্তার লুম্পেনদের সাথে ঝামেলায় না জড়াতে। জীতুকে তোপ দেগে সায়নীর সংযোজন, “আপনি আদতে একজন সুবিধাবাদী। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, যারা সুযোগ দিয়েছে তাদের পরবর্তীকালে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া, দুঃসময়ে যারা পাশে থেকেছে তাদের ছেড়ে চলে যাওয়া, প্রোডিউসার, ডিরেক্টর, টেকনিশিয়ান, মেক আপ ম্যান, হেয়ারড্রেসারদের কাছ থেকে ‘অপরাজিত’র সাফল্যের পরে আপনার রাতারাতি বদলে যাওয়ার বহু গল্প শুনেছি। আপনার সহকর্মীরাও আপনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বলেছেন। একটা বিষয় স্পষ্ট যে রাজনৈতিকভাবে আপনার মতো লোকেরা আসলে বামের নীতির কথা বলে, তৃণমূলের খেয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে বেঁচে থাকেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post