তারাপীঠের বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত আনুমানিক ৭
তীর্থভূমি তারাপীঠে মা তারার মন্দির থেকে কিছু দূরে থানা সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আনুমানিক সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মৃত ও আহতদের অধিকাংশই পুজো দিতে এসে ওই হোটেলে রাত্রিবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ এসির এনসিপি-তে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল জানান, আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে নাইট গার্ড ও আরও এক কর্মীকে ডাকা হয়। বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করার পাশাপাশি ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে দেওয়া হয়। অ্যালার্মের শব্দে হোটেলের বিভিন্ন ঘরে থাকা যাত্রীরা সতর্ক হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন।
তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে ধোঁয়া ধীরে ধীরে হোটেলের উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়লে। ঘন ধোঁয়ার কারণে বেশ কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আগুন এবং ধোঁয়ায় আতঙ্কিত হয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন রাত্রিবাসকারী পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন হোটেল থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে সাহায্য করেন। খবর দেওয়া হয় দমকলকে। দ্রুত দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। পরে পুলিশ ও দমকলের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা হোটেল চত্বর ঘিরে ফেলে।
আগুনে ঝলসে যাওয়া এবং অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃতদের দেহ পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
হোটেলে থাকা এক যাত্রী জানান, গভীর রাতে খাওয়াদাওয়া করে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভাঙে। চোখ খুলতেই চারপাশে ঘন ধোঁয়া দেখতে পান তাঁরা। হোটেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা।
যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শর্ট সার্কিটকেই আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, হোটেলের নিচে থাকা রান্নাঘর থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকা পুলিশ ও দমকলের নজরদারিতে রয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল এবং এত বড় বিপর্যয় কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।