যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও আপত্তিকর দেওয়াল লিখন রয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের দাবি উঠল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে এই দাবি জানিয়েছে শৈক্ষিক মহাসংঘ বলে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের পর থেকেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়াল ও হস্টেল এলাকায় আপত্তিকর এবং ‘দেশবিরোধী’ বলে চিহ্নিত কিছু স্লোগান ও গ্রাফিতির ছবি সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দিনে ক্যাম্পাস ও হস্টেল চত্বরে সাফাই অভিযান চালিয়ে আপত্তিকর লেখাগুলি মুছে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ঢেকে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে শৈক্ষিক মহাসংঘের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। ক্যাম্পাসে এমন কোনও কার্যকলাপ হয়েছে কি না, তার পিছনে কারা রয়েছে এবং এর সঙ্গে বৃহত্তর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি সংগঠনের।
এর আগে যাদবপুরের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছিল এবিভিপিও। সংগঠনের অভিযোগ ছিল, ক্যাম্পাসে কথিত দেশবিরোধী কার্যকলাপের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ১৯ ও ২০ অগস্টের অশান্তির ঘটনা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেও সেই তদন্ত কমিশন গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
ফলে যাদবপুরে ছাত্ররাজনীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এনআইএ তদন্তের দাবি আদৌ গ্রহণ করা হবে কি না, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে—এখন সেদিকেই নজর।