রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি–র প্রশিক্ষণ শিবিরে শমীক ছাড়াও হাজির ছিলেন পদ্মের দুই শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল এবং শিবপ্রকাশ। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার সভাপতি, বহু বিধায়ক এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং রাজ্য পদাধিকারীকেও এ দিন রুদ্ধদ্বার প্রশিক্ষণ শিবিরে ঢুকতে দেখা যায়। বাংলায় বিজেপি সরকার প্রথম একশো দিনে কী কী কাজ করেছে, তার প্রচার কৌশল চূড়ান্ত করাই ছিল এই প্রশিক্ষণ শিবিরের লক্ষ্য। সূত্রের দাবি, সেই রুদ্ধদ্বার প্রশিক্ষণ শিবিরেই শমীক নিশানা করেন বিজেপি বিধায়কদের একাংশকে।
পদ্ম শিবিরের অন্দরের খবর, কোনও রাখঢাক না করেই বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি সেখানে বলেন, ‘আমাদের পার্টির অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে এখনই ভূরি ভূরি তোলাবাজি আর কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আসছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগও উঠেছে অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে। এ সব কিন্তু বরদাস্ত করা হবে না।’ অতীতেও বিজেপির বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শমীক, বনসলরা সতর্ক করেছেন বিধায়কদের একাংশকে। কিন্তু তারপরেও তাঁদের অনেকের টনক নড়েনি বলে মনে করছেন পদ্ম–নেতৃত্ব। এ বার তাই এক রকম লাস্ট ওয়ার্নিং দিলেন শমীক।
বিজেপি সূত্রের দাবি, গত একশো দিনে বিজেপি সরকার কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান তৈরির পাশাপাশি গত একশো দিনে বিজেপির কোন বিধায়ক কোন কোন জায়গা থেকে তোলা আদায়ের চেষ্টা করেছেন, সেই খতিয়ানও গোপনে তৈরি করেছেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞায় কর্ণপাত না করে কিছু বিজেপি বিধায়ক আবার তৃণমূলের দাগি কাউন্সিলারদের কয়েকজনকে বিজেপির মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন পার্টির নিচুতলার নেতা–কর্মীরা। এ সবের জন্যও যে দল কড়া পদক্ষেপ করতে পারে, সেটাও বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের সভা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি।