সুদীপ-কাকলিদের সাংসদপদ খারিজ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন স্পিকার, চায় সুপ্রিম কোর্ট! আরও এক মাস সময় চেয়েছে এনসিপিআই


তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানিতে লোকসভার স্পিকারের কাছে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। যদিও স্পিকারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না বলে আদালতে সওয়াল করেন মেহতা।
শুনানিতে তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০ সাংসদকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁদের জবাব দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও জবাব না দিয়ে আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা।
এর পরেই আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানোর কথা বলে। জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, স্পিকার এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের মতো কাজ করছেন এবং দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই এখনই কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত চার সপ্তাহের মধ্যে সাংসদেরা তাঁদের জবাব দেবেন—এই বক্তব্য নথিভুক্ত করে শুনানি মুলতুবি করে দেয় আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেন। পরে স্পিকারের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। ২৫ অগস্ট শীর্ষ আদালত ২০ সাংসদকে নোটিস দেয়।
এর পর লোকসভা সচিবালয়ের তরফে সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। প্রথমে অল্প সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও পরে তাঁদের আবেদনে সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করা হয়। সেই সময়সীমাও পেরিয়ে যাওয়ার পর এনসিপিআইয়ের সংসদীয় চেয়ারপার্সন কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে আরও সময় লাগছে। তাই আরও চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে।
এখন স্পিকার ওম বিড়লা ওই অতিরিক্ত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করবেন কি না, সেটিই দেখার। একই সঙ্গে ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদনে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, তার দিকেও নজর রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post