নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—দুটি কেন্দ্রেই বিজেপির জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছেন দুঁদে রাজনীতিক শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী, বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের মার্জিনও মোটামুটি কী রকম হতে চলেছে, সেটাও আঁচ করে ফেলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘আমি তো ভোটের আগেই গন্ধ পাই।’
মঙ্গলবার দুপুরে সেই ‘ভোটের গন্ধ’ বিশ্লেষণ করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী রেকর্ড মার্জিনে জিততে চলেছেন। আর রেজিনগরে পদ্ম প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান অন্তত ২৫–৩০ হাজার হবে। দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের প্রশ্নে শুভেন্দুর ভরপুর আত্মবিশ্বাস ভরসা জোগাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকেও। ‘ভোটের গন্ধ’ অবশ্য বরাবরই পান শুভেন্দু। ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন– গণনার কোন রাউন্ডে তিনি এগিয়ে থাকবেন, আর কোন রাউন্ডে পিছিয়ে থাকবেন। গত ৪ মে গণনা চলাকালীন দেখা যায়, শুভেন্দুর ভবিষ্যদ্বাণী কাঁটায় কাঁটায় মিলে গিয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের আগে শুভেন্দু যে ঠিক গন্ধ পান, সেটা বিধানসভা ভোটের গণনার দিনই প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি শুভেন্দুর। ফলে ‘রাজনৈতিক ঘ্রাণশক্তি’ তাঁর এখনও একইরকম শক্তিশালী বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের। আর ‘ভোটের আগে হাওয়া’ টের পাওয়ার দক্ষতার জোরেই শুভেন্দু নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এখানে আমাদের প্রার্থী জিতবেন সেটা অনেক আগেই বলেছিলাম। রেজিনগরেও আমরা জিতব।’ এ দিন দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী যখন এ সব কথা বলছেন, তখন পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সেই ভোটদানের হার পর্যালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘নন্দীগ্রামে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তাতেই পঞ্চাশ হাজার মার্জিন পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি। আমি তো ভোটের আগেই গন্ধ পাই।’ তাঁর সংযোজন, ‘এটুকু বলতেই পারি, ২০১৬–তে আমি নন্দীগ্রামে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলাম— ৮২ হাজার ভোটে। আমার বিশ্বাস, এ বার সে রেকর্ড ভাঙবে। মানুষ ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্য সরকারের উপরে আস্থা রাখবে।’ নন্দীগ্রাম নিয়ে একইরকম আত্মবিশ্বাসী রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। এ দিন জলপাইগুড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে গতবারের মার্জিনের থেকে এ বারের মার্জিন পাঁচগুণ বেশি হবে।’
রেজিনগরে প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। ফলে শাসক দল হওয়ায় সত্ত্বেও এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি আদৌ কতটা দাঁত ফোটাতে পারবে, তা নিয়ে পদ্মের অন্দরেই সংশয় ছিল। সেই ভাবনা দূর করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘রেজিনগরে ২৫–৩০ হাজারের লিড আমাদের থাকবেই।’ ওই কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে শমীকের ব্যাখ্যা, ‘রেজিনগরে বিজেপি জিততে পারে এটা অনেকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে, সংখ্যালঘু প্রভাবিত রেজিনগরে বিজেপি কী ভাবে জিতবে? আমি বলছি, রেজিনগরেও বিজেপি এ বার জিতবে। সংখ্যালঘুরা বলছেন, আমরা কারখানা চাই, বাবরি মসজিদ চাই না। তাঁরাও বিজেপির পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’