শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে এক মহিলা বিচারককে ঘিরে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, হিজাব পরে এজলাসে বসা বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের চার নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাকে ঘিরে নিন্দার ঝড় উঠেছে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে।
আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এজলাসে অভিযুক্তদের নাম ধরে উপস্থিতি চাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন আচমকাই ‘জয় শ্রীরাম’ বলে স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। বিচারকের পোশাক দেখেই ওই মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে এজলাসের ভিতরে বিতর্ক তৈরি হয়। আদালতের পরিবেশে এমন স্লোগান কেন দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার পর অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা আদালতকক্ষেই ক্ষমা চান বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য, ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য বিচারককে অসম্মান করা ছিল না। অনেকেই একে সম্ভাষণ হিসাবেও ব্যবহার করেন বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও অভিযুক্ত ঠিক কোন প্রেক্ষিতে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। আদালতকক্ষের মতো জায়গায় কোনও ধরনের ধর্মীয় স্লোগান বা মন্তব্য করা অনভিপ্রেত বলেই মত আইনজীবীদের একাংশের। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
উদয়শঙ্কর বলেন, ‘‘এটা একেবারেই অনভিপ্রেত। আদালতকক্ষে এ সব কখনওই কাম্য নয়।’’ তাঁর বক্তব্য, আদালত এমন একটি জায়গা যেখানে বিচারপ্রক্রিয়ার সময় নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনও ধর্মীয় স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়া ঠিক নয়।
বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরও জানান, বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করতে পারত। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আদালতের তরফে কোনও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বা অন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্য দিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ বলাকে সম্ভাষণ হিসাবেও ব্যবহার করা হয় বলে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতকক্ষে বিচারকের সামনে ওই ধরনের স্লোগান দেওয়া হলে সেটি কী ভাবে দেখা হবে, তা নিয়েই মূল বিতর্ক।
ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিচারকের পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষে কোনও মন্তব্য বা স্লোগান দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। আদালতের পরিবেশে পেশাগত শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাই জোর দিয়ে বলছেন আইনজীবীদের একাংশ।