নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কার নির্দেশ ছিল, তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যতম বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা।
ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার জন্য সাধারণত ফর্ম ৬ জমা দিতে হয়। নির্বাচন কমিশনের ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। অভিযোগ ও প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে, সম্প্রতি ওই পোর্টালে ফর্ম ৬-এর কাঠামো বা তথ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটিই। পোর্টালটির পরিচালনা এবং পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে টিসিএস।
রাহুলের প্রশ্ন, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত ঠিক কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল? এই পরিবর্তনের জন্য টিসিএসকে কে নির্দেশ দিয়েছিল, তা নিয়েও তিনি জবাব চেয়েছেন। তাঁর আরও প্রশ্ন, টিসিএসের উপর এই পরিবর্তন করার জন্য কোনও বিশেষ রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না। শুধু তাই নয়, সংস্থার ঠিক কোন আধিকারিক ওই পরিবর্তনের অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট নথিতে সই করেছিলেন, সেটিও প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমের পোস্টে রাহুল কার্যত জানতে চেয়েছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফর্মে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ও নজরদারি কতটা ছিল। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা।
এর আগেও ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বার সরব হয়েছেন রাহুল। ভোটার তালিকায় কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কমিশনের কাছে স্বচ্ছতা চেয়েছে কংগ্রেস। যদিও নির্বাচন কমিশন অতীতে বিরোধীদের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়েছে এবং ভোটার তালিকা তৈরির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়মের কথাও জানিয়েছে।
এ বার ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনে রাহুল সরাসরি জানতে চাইছেন, এই বদলের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারা ছিলেন। বিশেষ করে বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএসের মতো একটি সংস্থা কী নির্দেশের ভিত্তিতে পরিবর্তনটি করেছিল, সেই প্রশ্নই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফলে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ফর্ম ৬-এ কী পরিবর্তন করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের অনুমোদন কার কাছ থেকে এসেছিল—এই তিনটি প্রশ্নই এখন রাহুলের পোস্টকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন বা টিসিএসের তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রশ্নের কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।