সাদা রঙের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’, প্রতারণার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে গ্রেফতার!


সাদা গাড়িতে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ লেখা, সেনার পোশাকে দাপিয়ে বেড়াতেন ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’! প্রতারণার অভিযোগে নবগ্রামে গ্রেফতার তরুণ

মুর্শিদাবাদ: চোখে রোদচশমা, পরনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাক, আর সাদা রঙের চারচাকা গাড়ির সামনে ও পিছনে লেখা ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’। এমনই সাজে এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন এক যুবক। নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’ বলে পরিচয় দিতেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনও যোগসূত্র নেই। সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে গ্রেফতার হলেন ওই যুবক। ধৃতের নাম তরুণ দাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ দাস মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’ বলে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং গাড়ির সাজসজ্জা দেখে অনেকেই তাঁকে সেনাবাহিনীর আধিকারিক বলে মনে করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাদা রঙের চারচাকা গাড়িতে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ লেখা থাকার বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

অভিযোগ, শুধু সেনাবাহিনীর আধিকারিক পরিচয় দেওয়াই নয়, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন তরুণ। সরকারি চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন।

কীভাবে পুলিশের জালে ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’?

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নবগ্রাম থানার পুলিশ তরুণ দাসকে গ্রেফতার করেছে। তবে ঠিক কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছেছিল, কত দিন ধরে তিনি এই পরিচয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

তরুণের বয়স, পেশা এবং অন্যান্য পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজখবর নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি, সেনাবাহিনীর পোশাক এবং নিজেকে সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হতে পারে। গাড়িতে সরকারি পরিচয়বাহী লেখা ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও তদন্তে প্রশ্ন উঠতে পারে।

চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বর্তমানে সরকারি চাকরির আশায় বহু তরুণ-তরুণী বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যদি প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিক বা সেনাবাহিনীর পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন, তা হলে চাকরিপ্রার্থীরা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তরুণ দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্ত সত্যিই কোনও চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কি না, সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি না। অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

তদন্তে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ?

এই ঘটনার পর বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তরুণ দাস কত দিন ধরে নিজেকে ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’ বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন? তাঁর ব্যবহৃত গাড়িতে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ লেখা কেন ছিল? চাকরি দেওয়ার নামে কতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে? তাঁর সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না? আপাতত এই বিষয়গুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

সব মিলিয়ে, সেনাবাহিনীর আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা এবং চাকরির প্রতিশ্রুতিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তরুণ দাসের গ্রেফতারি ঘিরে মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের তরফে আরও তথ্য সামনে এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post