রাষ্ট্রবাদী সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র! বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুষ্ঠানে ‘ছারপোকা’দের থেকে সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর


রাষ্ট্রবাদী সরকারকে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। আর সেই ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের মানুষকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার আলিপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক বিষয়ে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন উঠে আসে দেশের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, তেমনই ছিল হিন্দু ধর্ম, সংগঠন ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য। একই সঙ্গে ‘ছারপোকা’দের নিয়েও সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, চারদিকে অনেক ‘ছারপোকা’ বেরিয়েছে। তাঁদের কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘চারিদিকে অনেক ছারপোকা বেরিয়েছে, হালকাভাবে নেবেন না।’’ তাঁর দাবি, দেশের ভিতরেই এই ধরনের ‘ছারপোকা’রা ঢুকে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের একাংশের সরব হওয়ার মধ্যেই শুভেন্দুর ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। কেন তাঁর ‘করুণ’ পরিণতি হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, হিন্দু ধর্ম, হিন্দু সংগঠন, হিন্দু দেবদেবী, পরম্পরা এবং সংস্কৃতিকে আঘাত করার কারণেই গণতান্ত্রিক ভাবে মমতার এই পরিণতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিও উঠে আসে।
এদিন কলকাতার প্রসঙ্গেও আলাদা করে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কলকাতা শুধু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর নয়, এটি ‘ডিভোশনাল ক্যাপিটাল’ও। ধর্মীয় ঐতিহ্য, মন্দির এবং বিভিন্ন ধর্মীয় পরম্পরার সঙ্গে কলকাতার দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলে বাংলায় ধর্মের ভিত্তিতে অত্যাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেই সময়ের একাধিক ঘটনার খতিয়ান। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা বা অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিনের অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গও আসে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা উল্লেখ করে দেশের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, দেশের স্বার্থে সবাইকে একজোট থাকতে হবে এবং দেশের ভিতরে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
সব মিলিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল ধর্ম, রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক প্রসঙ্গ। ‘ছারপোকা’দের নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা এবং ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post